সই-জাল কাণ্ডে অভিষেককে ফের তলব, মমতার অফিসে তল্লাশি! চাপে তৃণমূল?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের সুযোগ নিয়েই কি তাঁর কার্যালয়ে হানা? বিধানসভার সই-জাল কাণ্ডের তদন্তে সোমবার রাতে  কালীঘাটের বাড়ির অদূরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডি (CID)-র হানা ঘিরে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অফিসে সিআইডি হানা: কী অভিযোগ? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিধায়কদের সই জালকাণ্ডের একটি চিঠিতে এই কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ ছিল। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। শুরুতে বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সিআইডি আধিকারিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

ঘটনার কড়া নিন্দা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেছেন,  দিল্লি যাওয়ার সুযোগ বুঝে তাঁর অফিস সার্চ করতে এসেছে সিআইডি। তাদের সঙ্গে সাক্ষী হিসেবে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারের বেশে বিজেপির লোক ঢুকেছে। এরা স্থানীয়ও নয়।”

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তুলে কল্যাণ বলেন, “নরেন্দ্র মোদীকে সন্তুষ্ট করতে ওনারা এই কাজ করছেন। মমতার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই চক্রান্ত করা হয়েছে। শুভেন্দু প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করছেন। ভারতে কোথাও  মমতার সঙ্গে এমনটা হয়নি।”

অভিষেকের তৃতীয়বার তলব এড়ানো অন্যদিকে, বিধায়কদের সই-জালকাণ্ডে সিআইডি-র তৃতীয় তলবও এড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ ছিল তাঁর। তবে নিজের ব্যস্ততা ও কলকাতার বাইরে থাকার কারণ দেখিয়ে সময় শেষের আগেই সিআইডি-কে চিঠি দিয়ে নিজের অনুপস্থিতির কথা জানান তিনি।

তদন্তকারী সংস্থার এই একের পর এক পদক্ষেপ যে রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁদের নেতাদের চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy