সংসদে ধুন্ধুমার! স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনছে ইন্ডিয়া জোট, তুঙ্গে সংঘাত

লোকসভার বাজেট অধিবেশনে মোদি সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত এবার চরমে পৌঁছল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। সোমবার সকালে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে এই রণকৌশল স্থির করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শতাব্দী রায় এবং স্বয়ং রাহুল গান্ধী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কেন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ? বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার ওম বিড়লা একতরফাভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন। অনাস্থা প্রস্তাব আনার পেছনে প্রধান ৪টি কারণ দর্শিয়েছে বিরোধী শিবির: ১. লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে অধিবেশনে বলতে বাধা দেওয়া এবং তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা। ২. কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে অন্যায্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা। ৩. অনৈতিকভাবে বিরোধীদের ৮ জন সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করা। ৪. ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য নিশিকান্ত দুবেকে সবরকমের নিয়ম ভাঙার ছাড় দেওয়া হলেও বিরোধীদের প্রতি কঠোর হওয়া।

২০ দিনের নোটিস ও রণকৌশল: সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে গেলে ২০ দিন আগে নোটিস দিতে হয়। সূত্রের খবর, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই প্রস্তাব পেশ করতে পারে কংগ্রেস সহ জোটের শরিক দলগুলি। বিরোধীদের দাবি, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকারের পদটি নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমান স্পিকার শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন।

এদিন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে স্থির হয়েছে, সংসদে সরকারের জনবিরোধী নীতির পাশাপাশি স্পিকারের এই ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হবে ইন্ডিয়া জোট। তৃণমূল নেত্রী শতাব্দী রায়ের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলও কংগ্রেসের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে। সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন টানটান উত্তেজনা।