সংসদে আজ বাজেট যুদ্ধ! উত্তাল হতে পারে দুই কক্ষ, নির্মলার ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ রুখতে কী ছক বিরোধীদের?

সোমবার থেকে সংসদের উভয় কক্ষে শুরু হতে চলেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা। গত ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন টানা নবমবারের মতো এই বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়েছেন। একদিকে সরকার যখন একে ‘যুবশক্তি’ এবং আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মাইলফলক বলছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির একে ‘প্রান্তিক মানুষ ও কৃষকদের জন্য বিপর্যয়’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল জোর দিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডোর, নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর এবং ২০টি জাতীয় জলপথ চালুর মেগা পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। শেয়ার বাজারে ফাটকা কারবার রুখতে ফিউচার এবং অপশন (F&O) ট্রেডিং-এ সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বাড়ানোর ঘোষণাও করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই বাজেট ভারতের অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত করবে।
তবে বিরোধীদের তূণে রয়েছে একাধিক তির। তামিলনাড়ুর ডিএমকে-সহ ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো অভিযোগ করেছে, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বস্তির চেয়ে কর্পোরেট স্বার্থই বেশি সুরক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কৃষি পণ্যের ওপর ‘জিরো ট্যারাফ’ বা শূন্য শুল্কের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিএমকে সাংসদ টিআর বালু। বিরোধীদের আশঙ্কা, এর ফলে ভারতীয় কৃষকরা বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।
আজকের অধিবেশন শুরুর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসছেন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। সেখানে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ও আলোচনার গতিপ্রকৃতি ঠিক করতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হবে। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় কয়লা মন্ত্রকের রিপোর্ট পেশের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কাজও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, আজ দিল্লির সংসদ ভবন এক তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্কের সাক্ষী হতে চলেছে।