পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থা এখন ‘শাঁখের করাত’। একদিকে তলানিতে ঠেকেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি মেটানোর পাহাড়প্রমাণ চাপ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭,৯৫৭ কোটি টাকা) ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। এই বিপুল অর্থ সময়মতো ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সামনে।
পাক অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তেলের আকাশছোঁয়া দামের মাঝে দেশের রিজার্ভ বজায় রাখতে তাঁরা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক এবং বন্ধু দেশগুলির থেকে পুনরায় ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছেন। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান ইতিমধ্য়েই চীন এবং সৌদি আরবের সঙ্গে এই বিষয়ে গোপনে আলোচনা শুরু করেছে। গত এপ্রিল মাসে বিগত সাত বছরের ইতিহাসে প্রথমবার আমিরশাহির সঙ্গে নতুন ঋণের চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের ভাণ্ডারে মাত্র ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা দিয়ে মেরেকেটে তিন মাসের আমদানি খরচ চালানো সম্ভব। আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে ওয়াশিংটনে রয়েছেন ঔরঙ্গজেব। তিনি আশা করছেন, আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট কর্মসূচি থেকে দ্রুত কিস্তি পাওয়া যাবে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহে সঙ্কট তৈরি করায় পাকিস্তানের মতো ঋণগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।





