বিহারের মসনদে নজিরবিহীন বদল! নীতীশের ইস্তফায় দীর্ঘ জেডি(ইউ) জমানার অবসান, প্রথমবার বিজেপির হাতে কুর্সি

বিহারের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের ইতি ঘটল। আজ, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনের (অবসরপ্রাপ্ত) কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এর সাথে সাথেই বিহারে জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডি(ইউ)-র একচ্ছত্র আধিপত্যের পতন হলো এবং রাজ্যে প্রথমবার এককভাবে ক্ষমতায় আসার পথে পা বাড়াল বিজেপি।

কেন এই ঐতিহাসিক পদত্যাগ? নীতীশ কুমারের ইস্তফা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। সম্প্রতি তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট হচ্ছিল যে, তিনি এবার দিল্লি মুখী হতে পারেন। আজ খরমাস কাটতেই সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এনডিএ জোটের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বিজেপির একক আধিপত্য নিশ্চিত করতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিহারে গেরুয়া সূর্যোদয়: নীতীশ কুমারের ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির নির্দেশে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিহারের ইতিহাসে এই প্রথম বিজেপি নিজের দমে মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে। এর আগে বহুবার জোট সরকারে বড় শক্তি হয়েও নীতীশ কুমারের মুখকেই সামনে রেখেছিল বিজেপি।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় বিহারের বিরোধী শিবির অর্থাৎ আরজেডি (RJD) ও কংগ্রেসের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেজস্বী যাদবের অনুগামীরা একে ‘ম্যান্ডেটের অবমাননা’ বলে দাবি করলেও, বিজেপির দাবি— এটি বিহারের উন্নয়নের স্বার্থে নেওয়া এক সাহসী পদক্ষেপ। অন্যদিকে নীতীশ কুমার জানিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে জাতীয় স্তরে কাজ করতে আগ্রহী।

পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: নীতীশ কুমারের প্রস্থান কেবল বিহার নয়, ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। জোট রাজনীতির চাণক্য হিসেবে পরিচিত নীতীশ কুমার কি এবার দিল্লির মসনদে কোনো বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন? সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy