উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের সায়রাপুর থানা এলাকা থেকে উঠে এল এক রোমহর্ষক ঘটনা। নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব, তারপর প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাবালিকাদের যৌন শোষণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শোয়েব আখতারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ।
সৌরভ সেজে সেলুন কর্মীর কারসাজি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শোয়েব আখতার আদতে গোন্ডার বাসিন্দা। সায়রাপুর থানা এলাকার রাইথা রোডে সে একটি সেলুন চালাত। তবে তার আসল কারসাজি চলত ইন্টারনেটে। অভিযোগ, শোয়েব ‘সৌরভ সিং’ নামে একটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল তৈরি করেছিল। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই সে নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াত।
মোবাইলে নাবালিকাদের অশ্লীল ভিডিও পুলিশি তদন্তে শোয়েবের মোবাইল থেকে বেরিয়ে এসেছে হাড়হিম করা সব তথ্য। অভিযুক্তের ফোনে একাধিক নাবালিকা হিন্দু মেয়ের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, শোয়েব প্রথমে মেয়েদের প্রেমের জালে জড়িয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত এবং সেই সুযোগে গোপন ভিডিও রেকর্ড করে রাখত। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েদের ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিত ও ব্ল্যাকমেল করত।
নাবালিকার সাহস ও পুলিশের অ্যাকশন গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন এক নাবালিকা সাহস করে সায়রাপুর থানায় শোয়েবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। ওই নাবালিকার বয়ানে উঠে আসে তার ওপর হওয়া ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের কথা। এরপরই তৎপর হয় পুলিশ।
এসিপি (বিকেটি) জ্ঞানেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ধৃত শোয়েব আখতারের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং কল লিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, শোয়েব এখনও পর্যন্ত কতজনকে নিজের শিকার বানিয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না।
লখনউ পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাম ভাঁড়িয়ে এই ধরনের প্রতারণা রুখতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।





