রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিম। সূত্রের খবর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পরেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে। জানা গেছে, ফিরহাদ হাকিম নিজেই ইস্তফা দেওয়ার জন্য তৃণমূল নেত্রীর কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্জুর করেছেন।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক সময়ে পুরসভার একাধিক বরো চেয়ারম্যান ও মেয়র পারিষদের ইস্তফার পর ববি হাকিমের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে। মেয়র হিসেবে কাজ করতে পারছেন না—এমন আক্ষেপ আগেই তৃণমূল নেত্রীর কাছে ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। সম্মান রক্ষার্থেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন বলে খবর। ১৯৮০ সালের মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, মেয়র পদত্যাগ করলে তাঁকে কলকাতা পুরসভার চেয়ারপারসনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। চেয়ারপারসন অনুপস্থিত থাকলে কমিশনারের কাছে এই চিঠি পৌঁছাতে হবে।
বিধানসভার অন্দরে বড় সমীকরণ: একই দিনে রাজ্যের বিধানসভার সমীকরণও সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে নতুন পরিষদীয় দল গঠন করেছেন তিনি। ঋতব্রত জানিয়েছেন, বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও এদিন স্পষ্ট করেছেন তিনি।
একদিকে কলকাতার মেয়রের ইস্তফা, অন্যদিকে বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতার উত্থান—বুধবারের এই জোড়া ঘটনা রাজ্যের রাজনীতির মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





