রাজনীতির পিচ বড়ই অনিশ্চিত। এখানে যেমন কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে যায় ভাগ্য, তেমনই পাল্টে যায় আনুগত্যের সমীকরণও। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ফুটল পদ্মফুল। আর গৈরিক ঝড় রাজ্যে আছড়ে পড়তেই নতুন করে জল্পনা শুরু হল টলিউড অভিনেতা যশ দাশগুপ্তকে নিয়ে।
একুশের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে চণ্ডীতলা থেকে লড়েছিলেন যশ। কিন্তু হারের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল অভিনেতার। মাঝে তৃণমূলের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গেলেও, ছাব্বিশের ফল ঘোষণা হতেই ফের ‘পুরনো প্রেমে’ মজলেন টলিউডের এই হ্যান্ডসাম হিরো।
শুভেন্দুর জন্য আবেগঘন বার্তা বিজেপির বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে দীর্ঘ পোস্ট করলেন যশ। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শুভেন্দু অধিকারীকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। রাজনৈতিক সংগ্রামের অত্যন্ত কঠিন কিছু মুহূর্তে, বাংলার মানুষের প্রতি আপনার নিরলস নিষ্ঠা, অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা এবং গভীর অঙ্গীকার আমি স্বচক্ষে দেখেছি।”
যশ আরও যোগ করেন যে, বাংলা এখন উন্নয়ন এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের নতুন যুগের পথে এগিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, যশ যে ছবিটি শেয়ার করেছেন সেটি ছিল একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ের, যখন শুভেন্দু তাঁর হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন।
নুসরতের অবস্থান ও টলিপাড়ার গুঞ্জন যশের এই পোস্ট ঘিরে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ নিয়ে। যশের সঙ্গিনী নুসরত জাহান তৃণমূলের প্রাক্তন তারকা সাংসদ। এমনকি নির্বাচনের কয়েক মাস আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক চ্যাট শোতে এই জুটিকে একসঙ্গে হাসিমুখে দেখা গিয়েছিল। তৃণমূল সরকারের একাধিক অনুষ্ঠানে যশের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর যশের এই ভোলবদলকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছেন টলিপাড়ার একাংশ।
ঘরে বাইরে দোলাচল? চণ্ডীতলায় হারের পর যশ নিজেকে বিজেপি থেকে সরিয়ে নিলেও, শুভেন্দুর প্রতি তাঁর এই প্রকাশ্য ‘শ্রদ্ধা’ এবং উন্নয়ন নিয়ে বার্তা নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে কি ঘরনি নুসরত শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও যশ ফের সক্রিয়ভাবে বিজেপিতে ফিরতে চাইছেন? নাকি ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথেই টলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’-এর অন্দরেও তৈরি হয়েছে মতাদর্শের সংঘাত?
আপাতত যশের এই পোস্ট ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে ট্রোলিং আর চর্চার বন্যা। সময় বলবে, এই শুভেচ্ছা শুধুই সৌজন্য, নাকি ফের গেরুয়া বসন গায়ে তোলার প্রস্তুতি।





