সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের জন্য আমরা অদম্য পরিশ্রম করি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কঠোর পরিশ্রমের পরেও পরিবারে অশান্তি বা আর্থিক টানাপোড়েন লেগেই থাকছে। প্রাচীন ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি ছোটখাটো জিনিসের অবস্থান আমাদের জীবনের ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই তালিকায় থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত বস্তু হলো ‘ইলেকট্রিক মিটার’। অনেকে একে স্রেফ একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র মনে করলেও, বাস্তু মতে বাড়ির শক্তির প্রবাহের সঙ্গে এর গভীর সংযোগ রয়েছে।
বাস্তুশাস্ত্রে পাঁচটি প্রধান উপাদানের মধ্যে ‘অগ্নি’ অন্যতম। ইলেকট্রিক মিটার যেহেতু বিদ্যুৎ বা শক্তির উৎস, তাই একে অগ্নিতত্ত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের জন্য বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব (South-East) দিক বা ‘অগ্নি কোণ’ হলো শ্রেষ্ঠ স্থান। এই কোণে ইলেকট্রিক মিটার স্থাপন করলে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং আর্থিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। মনে করা হয়, আগুনের সঠিক অবস্থানে থাকার ফলে বাড়ির অশুভ শক্তি দূর হয়।
তবে আধুনিক আবাসন বা জায়গার অভাবের কারণে অনেক সময় দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিটার বসানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে উত্তর-পশ্চিম (North-West) দিকটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। বাস্তুবিদদের মতে, এই দিকটিও বৈদ্যুতিক মিটারের জন্য নিরাপদ। এই স্থানে মিটার থাকলে বড় কোনো বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক গোলযোগ হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
অন্যদিকে, কয়েকটি দিক রয়েছে যা মিটারের জন্য একেবারেই অশুভ। বিশেষ করে বাড়ির উত্তর-পূর্ব (ইশান কোণ) এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ভুলেও ইলেকট্রিক মিটার বসানো উচিত নয়। ইশান কোণকে বলা হয় দেবতাদের স্থান, সেখানে অগ্নিতত্ত্বের প্রবেশ ঘটালে পরিবারে রোগব্যাধি ও অকারণ খরচ বাড়তে পারে। একইভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মিটার থাকলে মানসিক অস্থিরতা এবং পরিবারের প্রধান ব্যক্তির ওপর চাপের সৃষ্টি হতে পারে।
পরিশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, বাস্তুশাস্ত্রের এই বিধিগুলি মূলত চিরাচরিত বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই যারা বাস্তুতে বিশ্বাসী, তারা এই টিপসগুলি পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে মিটারের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, বৈদ্যুতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া এবং আধুনিক সেফটি গিয়ার ব্যবহার করা সবথেকে জরুরি।





