নিস্তব্ধ রাস্তা, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা ১৫ মিনিট। ঠিক সেই সময়েই মধ্যমগ্রামের রাস্তায় ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় এখন প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার ধরণ এবং প্রামাণ্য তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত যে, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয় বরং মোটা টাকার বিনিময়ে ‘সুপারি কিলার’ দিয়ে করানো একটি সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার ‘হিট জব’।
তদন্তের গভীরে ঢুকে পুলিশের হাতে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা রীতিমতো পিলে চমকে দেওয়ার মতো। জানা গিয়েছে, খুনিরা সংখ্যায় ছিল তিন জন। এই পুরো অপারেশনে একটি চারচাকা গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘাতকদের নিখুঁত পরিকল্পনার কথা ভেবে কার্যত থমকে গিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও। ঘটনার সময় চন্দ্রনাথবাবু গাড়ির সামনের সিটে চালকের পাশেই বসেছিলেন। হঠাৎই একটি রহস্যময় চারচাকা গাড়ি এসে তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে। চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু’টি বাইক দু’দিক থেকে ঘিরে ধরে গাড়িটিকে।
এই গোটা ঘটনার সাক্ষী আদিত্য নামের এক যুবক। তিনি জানিয়েছেন, “চন্দ্রনাথদার গাড়িটি আমাকে প্রায় ৬০ কিমি গতিতে ওভারটেক করেছিল। আমি তাঁর ১৫০ মিটারের মধ্যেই ছিলাম। দেখলাম হঠাৎই একটি গাড়ি ওঁর পথ আটকালো এবং একটি বাইক আমাকেও ক্রস করে ওঁর গাড়ির পাশে চলে গেল। বাইক আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল। সে গাড়ির বডিতে হাত দিয়ে ব্যালেন্স করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি চালাল। দুটো আওয়াজ শুনে আমি আর দাঁড়ানোর সাহস পাইনি।”
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুনিরা জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রিগার টিপেছিল। প্রথম গুলির আঘাতে কাচে যে গর্ত তৈরি হয়, সেখান থেকেই বাকি গুলিগুলো চালানো হয়। চন্দ্রনাথের মাথায় পরপর তিনটি গুলি লাগে এবং গুলিতে আহত হন তাঁর চালকও। তদন্তকারীদের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি। দেখা গিয়েছে, গাড়িটির নম্বর প্লেটটি সম্পূর্ণ ভুয়া— অন্য একটি গাড়ির নম্বর নকল করে সেটি লাগানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গাড়িটি যাতে শনাক্ত করা না যায়, সেই জন্য ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে চেসিস নম্বরও। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।





