শুভেন্দুর কাজের গতির সঙ্গে পেরে উঠি না! আমুলের মঞ্চ থেকে প্রকাশ্য সভায় কী এমন বললেন অমিত শাহ?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র আলোড়ন ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। আমূলের একটি মেগা প্রকল্পের ভূমিপূজা ও সুসংহত শিলায়রণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ জনসভায় যোগ দিতে এসে তিনি রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও খোলামেলা মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তাঁর কাজের গতি ও উদ্যমের কথা বলতে গিয়ে অমিত শাহ প্রকাশ্যেই বলেন যে, শুভেন্দুর কাজের গতির সঙ্গে তিনি নিজে অনেক সময়ই পেরে ওঠেন না। এই একটিমাত্র বাক্যই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে উষ্ণতার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে এবং এর অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার কাটাছেঁড়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখ থেকে এই ধরনের প্রশংসাসূচক মন্তব্য কেবল সাধারণ সৌজন্যের খাতিরে হয়নি, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য রাজনীতির এক গভীর কৌশলগত বার্তা। পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির লড়াকু মুখ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর সেই সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা যে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে, অমিত শাহের এই বক্তব্য তারই এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব একের পর এক বড় কর্মসূচির রূপায়ণ ঘটাচ্ছে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য স্বীকৃতি রাজ্য স্তরের নেতৃত্ত্বের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই মেগা প্রকল্পের মঞ্চ থেকেই দেশের দুগ্ধশিল্পের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমবায় ব্যবস্থার সঠিক বিকাশ এবং আমূলের মতো স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই গ্রামীণ ভারতের কোটি কোটি প্রান্তিক কৃষক ও দুধ উৎপাদক পরিবার আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন দিশা পাচ্ছে। রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই দিকটিও এই জনসভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। সবমিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে অমিত শাহের প্রশংসার এই বিস্ফোরক রাজনৈতিক বার্তা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।