দিল্লির লোধি কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ঘুমন্ত অবস্থাতেই পুড়ে ছাই এক মহিলা ও দুই শিশু

আজ নয়াদিল্লির জনবহুল লোধি কলোনি এলাকার বি.কে. দত্ত কলোনিতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় হঠাৎ করেই ভয়াবহ আগুন লেগে যাওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি হয়। আগুন এতটাই দ্রুত গতিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকা একজন মহিলা ও দুই নিষ্পাপ শিশু দুর্ভাগ্যবশত ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ভবনটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে হঠাৎ ঘন কালো ধোঁয়া ও দাউদাউ করে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে খবর পাঠান। খবর পাওয়া মাত্রই দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি আধুনিক ইঞ্জিন এবং দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় ওই মহিলা ও দুই শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের জীবন বাজি রেখে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দমকলকর্মীদের সর্বাত্মক সহায়তা করেন। পরবর্তীতে বড় ধরনের কোনো বিপদ এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই বহুতল আবাসিক ভবনটি ও তার আশপাশের সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই ভয়াবহ আগুন কীভাবে লাগল? ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো শর্ট সার্কিট কিংবা রান্নাঘরের গ্যাসের কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেনসিক তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশ ও দমকল বিভাগের একটি বিশেষ ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেছে। কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে ওই আবাসিক ভবনটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি মেজার্স ছিল কি না। একই সঙ্গে মৃতদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ এবং ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি আবাসিক ভবনগুলোর অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা মান নিয়ে আবারও এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরেই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আসল কারণ জানা যাবে। যদি তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা আইনি ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।