ক্যালেন্ডারের পাতায় নববর্ষের শুরু হলেও, রাজ্য রাজনীতিতে কি শুরু হলো এক পুরনো সংঘাতের নতুন অধ্যায়? রাজ্যপাল হিসেবে রবীন্দ্রনারায়ণ রবির (আর এন রবি) শপথ গ্রহণের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কের যে উষ্ণতা দেখিয়েছিলেন, তা মাত্র এক মাসেই ফিকে হতে শুরু করেছে। পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বয়ান এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।
অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যপালের কড়া খোঁচা: পয়লা বৈশাখের দিন লোকভবনে এক অনুষ্ঠানে বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ প্রশ্ন তোলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
জিডিপি ধস: ষাটের দশকে দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ শতাংশে।
আয়ের বৈষম্য: আশির দশকে বাংলার চেয়ে ধনী ছিল মাত্র ৪টি রাজ্য, আজ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে।
শিক্ষায় অবনতি: জাতীয় গড়ের তুলনায় শিক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলা পিছিয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে এই পরিস্থিতির ‘পরিবর্তন’ ঘটাতে এগিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন তিনি, যাকে অনেকেই রাজনৈতিক ইঙ্গিতবাহী মনে করছেন।
“শুভকামনা নেই, শুধু গালি!” ইসলামপুর থেকে মমতার পাল্টা: রাজ্যপালের এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তিনি বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, আজ মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে আমাকে গালি দিচ্ছেন।”
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ: রাজ্যপাল যখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন পাল্টা যুক্তি সাজিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভোটের সময় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের হাতে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় রাজ্যের ওপর চাপানো যাবে না। রাজ্যপালের এই সক্রিয়তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
পুরনো সংঘাতের স্মৃতি: বাংলার মানুষ আগে জগদীপ ধনখড় এবং সিভি আনন্দ বোসের সময় রাজভবন বনাম নবান্নের তীব্র লড়াই দেখেছে। আর এন রবির ক্ষেত্রে শুরুতে সম্পর্ক সৌজন্যমূলক মনে হলেও, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে— আগামী দিনে নবান্ন ও লোক ভবনের সমীকরণ আরও জটিল হতে চলেছে।





