‘শুধু দিল্লি নয়, টার্গেট ছিল গোটা দেশ’-সিরিয়াল ব্লাস্টের ছক কষেছিল ‘হোয়াইট কলার টেরর’ মডিউল

দেশের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত ‘হোয়াইট কলার টেরর’ মডিউলের সদস্যরা শুধুমাত্র রাজধানীতে নয়, দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ (সিরিয়াল ব্লাস্ট) ঘটানোর বিশাল পরিকল্পনা কষেছিল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-এর গোয়েন্দারা দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাইকে জেরা করে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, গোটা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ২০২৩ সাল থেকেই এই মারাত্মক ছক কষার কাজ শুরু হয়েছিল। এই চক্রে বিস্ফোরক জোগাড়, আত্মঘাতী হামলাকারী নির্বাচন, এবং অর্থ জোগাড়ের কাজ চলছিল সুপরিকল্পিতভাবে।

চিকিৎসকই ছিলেন বিস্ফোরক সরবরাহকারী

 

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাইয়ের প্রধান দায়িত্ব ছিল বোমা তৈরির সামগ্রী সরবরাহ করা।

  • মুজাম্মিল গুরুগ্রাম এবং নুহ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে এনপিকে (NPK) সার এবং ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট কিনেছিলেন।

  • বোমা তৈরির উপকরণগুলি সংরক্ষণের জন্য তিনি একটি ডিপ ফ্রিজও জোগাড় করেছিলেন।

  • গত ১০ নভেম্বর জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দল ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে, যা বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ। এই ঘটনাই মুজাম্মিলের গ্রেফতারির কারণ।

এই সব সার ও পদার্থ থেকে বিস্ফোরক তৈরির দায়িত্ব ছিল আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবির ওপর। উল্লেখ্য, লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের সময় চালকের আসনে ছিলেন এই উমর।

২৬ লাখ টাকার তহবিল, AK-47 পর্যন্ত উদ্ধার

 

NIA তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা নিজেদের পকেট থেকেই জোগাড় করেছিলেন অভিযুক্তরা।

নামভূমিকাজোগাড় করা অর্থ (লক্ষ টাকা)
মুজাম্মিল শাকিল গনাইচিকিৎসক, বিস্ফোরক জোগাড়কারী৫ লক্ষ টাকা
উমর উন নবিআত্মঘাতী জঙ্গি২ লক্ষ টাকা
শাহিন শাহিদজৈশ মহিলা শাখা নেত্রী৫ লক্ষ টাকা (উমরকে দেন)
আদিল রাঠিরসরকারি ডাক্তার৮ লক্ষ টাকা
মুজাফ্ফর রাঠিরসদস্য৬ লক্ষ টাকা

এছাড়াও, জম্মু-কাশ্মীরের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক আদিল রাঠিরের লকার থেকে একটি AK-47 রাইফেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। জেরায় মুজাম্মিল স্বীকার করেছেন, এই রাইফেলটি তিনি ৬.৫ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন।

পাকিস্তানের ‘টিটিপি’ যোগ!

 

জেরায় মুজাম্মিল তাদের হ্যান্ডলার বা নির্দেশদাতার নামও জানিয়েছেন। মনসুর নামে এক যুবক ছিলেন তাঁর হ্যান্ডলার। উমরও হাশিম নামে এক হ্যান্ডলারের হয়ে কাজ করতেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হল— ওকাসা নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে মুজাম্মিল আদিল ও মুজাফ্ফরের সঙ্গে তুরস্কেও গিয়েছিলেন। এই ওকাসা ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি)-এর সদস্য।

এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা মনে করছেন, দিল্লি বিস্ফোরণের ছক এবং ‘হোয়াইট কলার টেরর’ মডিউলের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি যোগ রয়েছে। এই মুহূর্তে অভিযুক্ত প্রত্যেকেই NIA-এর হেফাজতে রয়েছে। তাদের জেরা করে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।