শুধু জলে পা ডুবিয়েই বডি ডিটক্স! সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদের এই ম্যাজিক টোটকায় নিমেষে উধাও সারাদিনের ক্লান্তি

শরীরকে বিষমুক্ত বা ডিটক্সিফাই করা বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে গেলে লিভার, কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি কম চাপের কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এটি শুধু ত্বককে উজ্জ্বল রাখতেই সাহায্য করে না, বরং শরীরের কর্মশক্তিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শরীরকে সতেজ করতে মানুষ সাধারণত বিভিন্ন ডিটক্স ড্রিংক, ক্বাথ বা নানা ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকেন। তবে সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সম্প্রতি এমন একটি ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতির কথা প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে কেবল হালকা গরম জলে পা ভিজিয়ে রেখেই পুরো শরীরকে বিষমুক্ত করা সম্ভব।
পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহের মতে, শরীর থেকে টক্সিন দূর করার এই চমৎকার প্রতিকারটি একই সঙ্গে সারদিনের ক্লান্তি দূর করে এবং রাতে গাঢ় ও নিশ্চিন্ত ঘুম নিশ্চিত করতে জাদুর মতো কাজ করে। এটি দৈনন্দিন ব্যস্ত রুটিনের একটি অংশ বানিয়ে নিলে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা অত্যন্ত সহজ হয়। এই ডিটক্স ফুট সোক তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। সামান্য কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়েই এটি প্রস্তুত করা সম্ভব।
কীভাবে তৈরি করবেন ডিটক্স ফুট সোক?
প্রথমে প্রয়োজন মতো ঈষৎ উষ্ণ জল বা হালকা গরম জল নিন, যাতে পা দুটি ভালোভাবে ডুবিয়ে রাখা যায়। এরপর সেই জলে মিশিয়ে দিন ১ টেবিল চামচ এপসম লবণ, ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, কয়েকটি তাজা রোজমেরি পাতা এবং ১ চা চামচ কুচানো বা গ্রেট করা আদা। সমস্ত উপকরণ জলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়ার পর আপনার ডিটক্স বাথ পুরোপুরি প্রস্তুত।
ব্যবহারের নিয়ম ও পরবর্তী ধাপসমূহ:
জল প্রস্তুত করার পর দ্বিতীয় ধাপে আপনার পা দুটি ওই মিশ্রণে ডুবিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকুন। এই সময় গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং মানসিক চাপ মুক্ত হয়ে শরীরকে পুরোপুরি শিথিল হতে দিন। এরপর তৃতীয় ধাপে আলতো হাতে ব্রাশ দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। এই পদ্ধতি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং লসিকা প্রবাহকে ত্বরান্বিত করতে দারুণ সাহায্য করে। সন্ধ্যার রুটিনে এই ছোট্ট অভ্যাসটি যোগ করলেই স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হয়, ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে বিষমুক্ত হয়ে ওঠে।