হাত-পা বেঁধে নৃশংস নির্যাতন! মনীষা দেবীর রহস্যমৃত্যুর ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়, খুনের অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রতিবেশী

পূর্ব চম্পারণ (বিহার): বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার সংগ্রামপুর থানা এলাকার একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের চরম চাঞ্চল্য ছড়াল। প্রায় এক বছর আগের এই ঘটনায় মনীষা দেবী নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভাইরাল ভিডিও এই মৃত্যুর জলকে অনেকদূর পর্যন্ত গড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে এক যুবক ও দুই নারীকে মনীষার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রের খবর, মনীষা দেবীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর এক প্রতিবেশী অত্যন্ত গোপনে এই ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি মৃতার পরিবারের হাতে এসে পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, কীভাবে এক যুবক ও দুই মহিলা মিলে মনীষার হাত-পা শক্ত করে বাঁধছেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। এই ঘটনার ঠিক পরপরই মনীষার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে আসে। আর তারপর থেকেই মৃতার পরিবার একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে।

পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, মৃতার ভাই পুরান কুমার সিং সংগ্রামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ওই ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিবেশী হৃতিক কুমার, নীতু কুমারী এবং কিরণ দেবীকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই ন্যায়বিচার চেয়ে সংগ্রামপুর থানা এবং ডিএসপি (DSP)-র দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। পুলিশকে সেই প্রামাণ্য ভিডিওটি দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে। আরেরাজের এসডিপিও পঙ্কজ মিশ্র জানিয়েছেন যে, মামলাটি প্রায় এক বছর পুরনো হলেও সাম্প্রতিক এই ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন করে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা এবং এর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক তদন্তের পরই এই রহস্যজনক মৃত্যুর আসল সত্য সকলের সামনে উন্মোচিত হবে এবং দোষীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।