চলচ্চিত্র দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবাকে খুন! ২ হাজার কিমি পথ পাড়ি দিয়ে নৃশংস কান্ড ঘটাল ক্যালিয়া ছেলে

বিহারের সমস্তিপুর জেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হালাই থানা এলাকার দারবা গ্রামের বাসিন্দা রঘুবীর সাহনিকে তাঁরই ছেলে শিব শঙ্কর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিখ্যাত বলিউড সিনেমা ‘দৃশ্যম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই হত্যার ছক কষেছিল অভিযুক্ত। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিব শঙ্কর সপরিবারে সুরাটে বসবাস করত। বাবা রঘুবীর সাহনির সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং স্ত্রীর ওপর ক্রমাগত গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে সে এই ভয়াবহ পরিকল্পনা করে। অপরাধ সংঘটিত করতে সে সুরাট থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সোজাসুজি নিজের গ্রামে এসে পৌঁছায়।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, সুরাটে বসেই অজয় দেবগনের ‘দৃশ্যম’ সিনেমাটি দেখে অনুপ্রাণিত হয় শিব শঙ্কর। পরিকল্পনা নিখুঁত রাখতে সে সুরাট থেকে ট্রেনে চড়ে পাটনা ও হাজিপুর হয়ে পটোরি স্টেশনে নামে। এরপর একটি অটো চড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার পর গভীর রাতে প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে নিজের গ্রামে প্রবেশ করে। গত ২৬ জুলাই গভীর রাতে পেছনের দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে আলমারি থেকে একটি কুড়াল বের করে সে। বাড়ির বাইরে খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়ে থাকা বাবা রঘুবীর সাহনির ওপর চড়াও হয় এবং কুড়ালের কোপে তাঁর জীবন কেড়ে নেয়। হত্যাকাণ্ডের পরই কোনো প্রমাণ না রেখে রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় সে এবং পুনরায় ট্রেনে চড়ে সুরাটে ফিরে যায়।

তবে অপরাধীকে ধরতে বড় ভূমিকা পালন করেছে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সুরাট থেকে আসার পথে নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখেছিল শিব শঙ্কর। কিন্তু পটোরি স্টেশনে নেমে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য সে ক্ষণিকের জন্য ফোনটি অন করেছিল, আর ঠিক এই সামান্য ভুলেই তার সর্বনাশা অবস্থান ফাঁস হয়ে যায়। টাওয়ার লোকেশন ও কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে পুলিশের সাইবার সেল মুহূর্তের মধ্যে সুরাটে তার লুকানো অবস্থান ট্র্যাক করে ফেলে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাবার মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়িতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সে সেখানে উপস্থিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত সমস্তিপুর পুলিশের একটি বিশেষ দল সুরাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে এফএসএল (FSL) দল সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মামলার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।