শুধু ইচ্ছাশক্তি নয়, তামাক ছাড়তে জাদুকরী ‘৩-স্টেপ’ ফর্মুলা! জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

তামাক বা নিকোটিনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা অনেকের জন্যই এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ। সিগারেট, বিড়ি, গুটখা বা খৈনির নিকোটিন শরীরকে এমনভাবে কবজা করে যে, ছাড়ার চেষ্টা করলে তীব্র অস্থিরতা, বিরক্তি ও অনিয়ন্ত্রিত আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বারবার ব্যর্থ হয়ে অনেকে হাল ছেড়ে দেন। তবে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, তামাক ছাড়ার জন্য শুধুমাত্র প্রবল ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে’ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা অত্যন্ত কার্যকর ‘জিজ্ঞাসা করুন, পরামর্শ দিন এবং সংযোগ স্থাপন করুন’ (Ask, Advise and Connect) পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে।

বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্স (NIMHANS)-এর প্রাক্তন পরিচালক ডঃ প্রতিমা মূর্তির মতে, ভারতে ধূমপানের পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই নতুন পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে তামাক বর্জনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। যখনই কোনো রোগী ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে আসেন, তখন তাদের তামাক ব্যবহারের অভ্যাস সম্পর্কে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করা উচিত। এটি কোনো ভর্ৎসনার জন্য নয়, বরং রোগীকে সাহায্যের আওতায় আনার জন্য।

দ্বিতীয় ধাপে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ খুব অল্প সময়ে এবং স্পষ্ট ভাষায় রোগীকে তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন। তামাক যে শুধু ফুসফুস নয়, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং মুখের ক্যান্সারের মূল কারণ, তা বুঝিয়ে বলা জরুরি। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘সংযোগ স্থাপন’। রোগীকে শুধুমাত্র উপদেশ দিয়ে ছেড়ে না দিয়ে, তাকে কাউন্সেলিং, কুইটলাইন বা তামাক বর্জন কেন্দ্রের মতো নির্দিষ্ট পরিষেবার সাথে যুক্ত করে দেওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, সরাসরি এই সংযোগ স্থাপন করলে রোগীর তামাক ছাড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

অনেক সময় ধূমপান ছাড়তে ব্যর্থ হওয়াকে ‘ইচ্ছাশক্তির অভাব’ বলা হয়, যা ভুল। নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীলতা একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররা ‘নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ (NRT) বা গাম ও প্যাচ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তামাক ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বা মানসিক অবস্থায় তামাকের নেশা বেশি প্রবল হয়, তা চিহ্নিত করাও সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

যদি প্রথমবার চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবুও হতাশ হওয়া চলবে না। নিকোটিনের আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় একাধিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। বারবার ফিরে আসার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন পরিকল্পনায় এগোতে হবে। পারিবারিক সমর্থন, কাউন্সেলিং এবং সঠিক চিকিৎসার মেলবন্ধনই পারে তামাকের এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি দিতে। ‘জিজ্ঞাসা করুন, পরামর্শ দিন এবং সংযোগ স্থাপন করুন’—এই সহজ তিনটি ধাপই হতে পারে একজন ব্যক্তির সুস্থ জীবনের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।