মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধু আবেগ বা ভালোবাসার সুতোয় গাঁথা নয়, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক সত্য। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জন্মের পর সন্তান মায়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও মায়ের শরীরের কিছু কোষ সন্তানের দেহে থেকে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই অনন্য ঘটনাকে বলা হয় ‘মাইক্রোকাইমেরিজম’ (Microchimerism)।
গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা বা জরায়ুর মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে কেবল অক্সিজেন বা পুষ্টির আদান-প্রদান হয় না, অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কোষেরও বিনিময় ঘটে। বিজ্ঞানীদের দাবি, মায়ের কিছু কোষ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং তা রক্ত, ত্বক, লিভার, হাড়ের মজ্জা এমনকি মস্তিষ্কেও স্থায়ী বাসা বাঁধতে পারে। এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায় না, বরং দশকের পর দশক এমনকি সারাজীবন সন্তানের দেহে জীবিত থাকতে পারে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই কোষগুলো কেবল উপস্থিত থাকে না, বরং শরীরের প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকাও নেয়। কোনো ক্ষত সারাতে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই কোষগুলো সাহায্য করে বলে প্রাথমিক গবেষণায় জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, আক্ষরিক অর্থেই মায়ের একটি অংশ সবসময় সন্তানের শরীরের ভেতরে থেকে যায়। তাই ‘মা কখনও দূরে যায় না’—এই প্রচলিত কথাটি এখন কেবল কবির কল্পনা নয়, এক ধ্রুব বৈজ্ঞানিক বাস্তব।





