শীত জমে ক্ষীর! নলেন গুড়ের স্বাদে ‘দিলখুশ’, বর্ধমানে দুই স্বাদের পাটিসাপটা কিনতে দোকানে ভিড়! কোথায় মিলছে?

শীতকাল মানেই ঠান্ডা বাতাস, নতুন ধানের ম ম গন্ধ আর নলেন গুড়ের তৈরি নানা ধরনের পিঠেপুলি। এই নস্টালজিক স্বাদ ছাড়া বাঙালির শীত যেন অসম্পূর্ণ। সাধারণত পৌষ সংক্রান্তি থেকেই পিঠে পার্বণের আয়োজন শুরু হয়। তবে এবার আর অপেক্ষা নয়! পৌষ সংক্রান্তির আগেই বর্ধমানের একটি দোকানে মিলছে হাতেগরম, সুস্বাদু পাটিসাপটা।
গুড়ের স্বাদে কিস্তিমাত
বর্ধমান শহরের নেতাজী মিষ্টান্ন ভান্ডার এখন রসগোল্লা, ক্ষীরকদম্ব, জলভরা বা নলেন গুড়ের মিষ্টির পাশাপাশি কিস্তিমাত করছে তাদের হাতে তৈরি গরম পাটিসাপটা দিয়ে। নতুন ধানের চালের গুঁড়ি দিয়ে গ্রাম বাংলায় নবান্ন উৎসবে যে পিঠে তৈরি হয়, সেই ঐতিহ্যবাহী স্বাদের পাটিসাপটাই পরিবেশন করা হচ্ছে এই দোকানে।
দোকানের মালিক সৌমেন দাস জানান, বর্তমান প্রজন্মের মানুষেরা কর্মব্যস্ততার কারণে ঘরে পিঠে তৈরি করতে পারেন না, আবার অনেকে জানেনও না এই পদ্ধতি। কিন্তু শীতকালে সেই নস্টালজিক স্বাদের প্রতি তাঁদেরও আকর্ষণ থাকে। সেই কথা মাথায় রেখেই সংক্রান্তির আগেই পাটিসাপটা বানানো শুরু হয়েছে।
দুই ধরনের পাটিসাপটা, সাধ্যের মধ্যে দাম
নেতাজী মিষ্টান্ন ভান্ডারে দুই ধরনের পাটিসাপটা বানানো হচ্ছে, যা দেদার বিক্রি হচ্ছে:
১. ক্ষীরের পাটিসাপটা: দাম মাত্র ১৪ টাকা।
২. নারকেল এবং ক্ষীর দিয়ে তৈরি পাটিসাপটা: দাম মাত্র ১৫ টাকা।
সৌমেন দাস বলেন, “অনেকেরই পিঠে খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে বা বানানোর পদ্ধতি না জানার কারণে খেতে পারেন না। তাঁদের কথা ভেবেই এই ব্যবস্থা। হাজারও কর্মব্যস্ততার মাঝেও মানুষ যাতে সেই পুরনো নস্টালজিক স্বাদ নিতে পারেন, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।” হাতেগরম পাটিসাপটার উষ্ণতায় এই শীতকাল তাই হয়ে উঠেছে আরও সুন্দর।