শিল্পায়ন নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! পুরুলিয়ার এই মেগা প্রজেক্ট বদলে দেবে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভাগ্য!

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে যুক্ত হল এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়। বোকারো ও ভিলাইয়ের মতো রঘুনাথপুরকেও একটি আধুনিক ও উন্নত শিল্প শহরে রূপান্তর করার বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসে সোমবার তিনি এই আশার বাণী শোনান। তাঁর মতে, এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যের অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে ৫ হাজারের বেশি মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বুকে এই প্রথমবার কোনও গ্রিনফিল্ড এনভায়রনমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হতে চলেছে। শিল্পায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে অমিত মেটালিক্স লিমিটেডের প্রস্তাবিত এই ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করা হয়। প্রায় ১৫১ একর জমির উপর অত্যন্ত আধুনিক পরিকাঠামোয় গড়ে উঠছে এই বৃহৎ শিল্প প্রকল্প। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে ১.২ এমটিপিএ। পরবর্তীতে প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হলে গোষ্ঠীর মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হতে পারে ২.০ এমটিপিএ। প্রস্তাবিত এই শিল্প কমপ্লেক্সে পেলেট প্ল্যান্ট, ডিআরআই, রোলিং মিল, ফার্নেস এবং ব্রিক ইউনিটের মতো একাধিক আধুনিক পরিকাঠামো রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে ১৪৫ মেগাওয়াটের ক্যাপটিভ পাওয়ার বা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকছে।
শুধু বড় মাপের শিল্প গড়ে তোলাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকে সর্বাঙ্গীনভাবে চাঙ্গা করাও এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আনুষাঙ্গিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং লজিস্টিক্স ব্যবস্থার বিকাশে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোমাত্রায় উৎপাদন শুরু হলে সম্ভাব্য ৭ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রাও রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে ডব্লিউএইচআরবি (WHRB)-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (ZLD), জল পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গ্যাস ক্লিনিং প্ল্যান্ট, ইএসপি এবং স্ল্যাগ পুনর্ব্যবহারের মতো আধুনিক বন্দোবস্ত। অর্থাৎ শিল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি বছর ২১ কোটি টাকা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা সিএসআর (CSR) বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, জীবিকা নির্বাহ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এদিনের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি রাজ্যের প্রথম সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব গ্রিনফিল্ড প্রজেক্ট। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পায়ন একান্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত সিং জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরুলিয়ার তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।