শিলিগুড়ির দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যায় নাকাল শহরবাসী। সকাল হোক বা সন্ধ্যা, স্কুলগামী পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী – ট্রাফিকের এই বেহাল দশা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। এই জটিল সমস্যার সমাধানে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। ছোটদের চোখে দেখা সমস্যার কথা এবার সরাসরি শুনবে পুলিশ কমিশনারেট, যা শহরবাসীর মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
কমিশনারের অভিনব ভাবনা: শিশুদের চোখই তীক্ষ্ণ সমাধান সূত্র
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সি সুধাকর এই প্রসঙ্গে বলেন, “শহরের ট্রাফিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র আইন দিয়ে সম্ভব নয়। সমস্যার ভেতরের কথা বোঝার জন্য শিশুদের চোখই অনেক সময় বড়দের চেয়ে তীক্ষ্ণ।” এই ভাবনা থেকেই নেওয়া হয়েছে নতুন পদক্ষেপ। এখন থেকে স্কুল পড়ুয়ারাই চিঠি বা ইমেল লিখে তাদের যানজট সংক্রান্ত ভাবনা এবং সমাধান সূত্র পুলিশ কমিশনারেটের কাছে তুলে ধরতে পারবে। আর সেই সব পরামর্শের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হবে সেরা মতামত। নির্বাচিত সেরা ‘ছোট ট্রাফিক অ্যাডভাইজার’রা পুলিশের পক্ষ থেকে সম্মানও পাবেন।
পড়ুয়াদের উচ্ছ্বাস: “ছোটদের কথা যদি শোনে, খুবই ভাল হয়”
পুলিশের এই নতুন উদ্যোগে অনেকেই উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখছেন। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সৌমিতা সরকার প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তার টোটোর দখলদারি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে। সে বলে, “অনেক দিন ধরেই ভাবি কীভাবে রাস্তাগুলো ফাঁকা রাখা যায়। এবার ই-মেইলে লিখেই জানাব। ছোটদের কথা যদি শোনে, খুবই ভাল হয়।”
নবম শ্রেণির ছাত্র মাহবুব খানের কথাতেও একই আশার সুর। সে জানায়, “যানজটে স্কুলে পৌঁছতে দেরি হয়, দেরি হলেই শাস্তি! আবার রাস্তায় কোথাও ট্রাফিক পুলিশ থাকে না, যেটা থাকা উচিত। এবার সব বলব চিঠিতে!”
অভিভাবকদের সাধুবাদ: দায়িত্ববোধ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার রিপোর্ট
ছোটদের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, এই প্রয়াসে শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ যেমন তৈরি হবে, তেমনই প্রশাসনও পাবে বাস্তব অভিজ্ঞতার এক নির্ভেজাল রিপোর্ট। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন শিশুদের নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করবে, অন্যদিকে তাদের নিজস্ব ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়াবে।
শিলিগুড়ি শহরের ট্রাফিক সমস্যা যে খুব সহজে নিয়ন্ত্রণে আসবে না, তা সবাই জানে। তবে পুলিশের এই নতুন উদ্যোগে ছোটদের স্বপ্ন আর দায়িত্ববোধের ছোঁয়ায় হয়তো শিলিগুড়ির যানজট সমস্যার সমাধানে এক বড় পরিবর্তনের গল্প লেখা হতে পারে। এই অভিনব পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।





