শিঙাড়া-জিলিপিও ‘স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’! অস্বাস্থ্যকর খাবারে নজর কেন্দ্রের, জারি নতুন ফরমান

সিগারেটের প্যাকেটে যেমন ‘তামাকজাত দ্রব্য সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’ – এই বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দেখা মেলে, এবার ঠিক তেমনটাই হতে চলেছে আপনার প্রিয় শিঙাড়া, জিলিপি, পকোড়া কিংবা বড়া পাওয়ের ক্ষেত্রেও! স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক অভিনব উদ্যোগ অনুযায়ী, এবার থেকে এই ধরনের জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড এবং চা-বিস্কুটের মতো খাবারের সঙ্গেও থাকতে চলেছে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। কেন্দ্রের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা দেশের খাদ্য-সচেতনতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে।

কেন এই উদ্যোগ?
দেশের ক্রমবর্ধমান স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের সমস্যাই কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মূল কারণ। ল্যানসেট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে অন্তত ৪৪০ মিলিয়ন মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত হবেন, যা এক বিশাল জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা কী বলছে?
স্বাস্থ্য মন্ত্রক সম্প্রতি সমস্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন ফরমান জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের জিলিপি-শিঙাড়ার মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সতর্ক করতে হবে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের খাবারে ঠিক কত পরিমাণ ক্যালোরি, কত চিনি এবং কী পরিমাণ ট্রান্স-ফ্যাট রয়েছে, তা ক্যান্টিনগুলিতে পোস্টার টাঙিয়ে জানাতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই— যাতে খেতে বসার আগে সকলে খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

কোথায় শুরু, কোথায় ছড়াবে?
প্রাথমিকভাবে এইমস নাগপুর ক্যাম্পাসে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সেখানকার ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য খাওয়ার জায়গাগুলিতে ফুড কাউন্টারগুলির পাশেই এই সতর্কতামূলক পোস্টার টাঙানো হয়েছে, যাতে খেতে বসলেই তা সকলের চোখে পড়ে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই বিষয়টি চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— তারা এই ধরনের খাবারের বিক্রির উপর কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করছে না। মূল লক্ষ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিক্রি বন্ধ করা নয়।

সিগারেটের সতর্কীকরণের মতো, এবার শিঙাড়া-জিলিপির পাশেও স্বাস্থ্য সতর্কতা দেখতে পাওয়াটা ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাসে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।