শিক্ষক নিয়োগে জট কাটছে! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, ফাঁস করলেন রোডম্যাপ

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী জট কাটাতে তৎপর সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন, মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি।
নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে নিয়োগ নিয়ে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠত, তা আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিক থেকে কলেজ—সর্বস্তরে স্বচ্ছতার সঙ্গেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আগের সরকারের তৈরি করা আইনি জটিলতা নতুন আইনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। খুব শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্ট থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদী। এছাড়া, ৬ হাজার প্রার্থীর ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬ হাজার জনের মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি স্কুলে কড়া নজরদারি: শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে এদিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বেসরকারি স্কুলগুলোর ফি এবং পরিকাঠামোর ওপর এবার নিয়মিত নজর রাখবে সরকার। নিয়ম না মানলে বেসরকারি স্কুলের অনুমোদন বাতিলের পথেও হাঁটবে রাজ্য। সরকারি স্কুলের ওপর জনমানসের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
৮১ হাজার স্কুলে উন্নয়নের জোয়ার: জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) বাস্তবায়নের পথে কেন্দ্রীয় অনুদানের জট কাটিয়ে রাজ্যে ৮১ হাজার স্কুলের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব স্কুলে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ পৌঁছাবে। রাঢ়বঙ্গের চার জেলা—বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম দিয়ে এই সংস্কারের সূচনা হবে। স্কুলগুলোতে উন্নত শৌচালয়, আর্সেনিক-মুক্ত পানীয় জল, ফ্যান এবং ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিড-ডে মিলে বড় বদল: আগামী ১ আগস্ট থেকে মিড-ডে মিলের মানোন্নয়নে নতুন মেনু চালু হচ্ছে। পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে মাথাপিছু ১০ টাকা মূল্যের মেনু চালু হচ্ছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এই দায়িত্ব পাচ্ছে ইস্কন (ISKCON)। রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে স্কুলে সোলার প্যানেল বসানো হবে। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।