শ্রাবণী মেলায় ভক্তদের জন্য বড় ঘোষণা! তারকেশ্বরে কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি, তুঙ্গে প্রস্তুতি

শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার খাতিরে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সশরীরে তারকেশ্বর ধাম পরিদর্শনের ঠিক আগের দিন, সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের তিনটি প্রধান মন্দির কেন্দ্রিক বিশেষ সরকারি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম মাথায় রেখে রাজ্য প্রশাসন এ বছর বিশেষ সতর্ক।

কী কী সুবিধা পাচ্ছেন পুণ্যার্থীরা? শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বর, জলপাইগুড়ির জল্পেশ এবং ভুটান সীমান্তের জয়ন্তীতে ভক্তদের ঢল নামে। তাঁদের পুজো দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে রাজ্য সরকার নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলি নিয়েছে:

  • পানীয় জল ও চিকিৎসা: পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের দীর্ঘ পথে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য রাস্তায় মোতায়েন থাকবে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম।

  • পুষ্পবৃষ্টির উদ্যোগ: তারকেশ্বর মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে বিশেষ কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এবছরের মেলার অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।

  • মন্দির চত্বরের উন্নয়ন: তারকেশ্বর মন্দির চত্বরকে আরও সুন্দর ও প্রশস্ত করে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আস্থার যে পরম্পরা আমি দেখেছি, সেই আদলেই আমাদের রাজ্যেও পুণ্যার্থীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও পরিষেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তারকেশ্বরের পাশাপাশি জল্পেশ এবং জয়ন্তীতেও পুণ্যার্থীরা যেন কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।”

প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে দূর-দূরান্ত থেকে ‘কানউড়িয়া’ বা পুণ্যার্থীরা জল নিয়ে মন্দিরে পৌঁছান। তাঁদের দীর্ঘ যাত্রাপথকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করতেই রাজ্য প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী তারকেশ্বর ধামে পৌঁছে নিজে সমস্ত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।