আগামী ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই রাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইবাদতের সময়। তবে উৎসবের আমেজে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শব্দবাজি ও আতশবাজির দাপট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, শবে বরাতের রাতে শব্দদূষণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শবে বরাতের দিন রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত কোনোভাবেই আতশবাজি বা শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব বা সবুজ বাজির (Green Crackers) বাইরে অন্য কোনো বাজি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যদি কেউ এই সময়সীমার পর বাজি ফাটায়, তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, আইন রক্ষায় পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
জনস্বার্থ মামলাকারী সাগুফতা সুলেমান আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, কোরানে কোথাও শবে বরাতে বাজি ফাটানোর বিধান নেই। তাসত্ত্বেও পার্ক স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিটসহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর আতশবাজির তাণ্ডব চলে। এর ফলে বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু এবং অবলা প্রাণীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গত বছরও একই ধরণের নির্দেশ ছিল, কিন্তু প্রশাসনের শিথিলতার কারণে বহু জায়গায় নির্দেশ অমান্য করা হয়েছিল। এবার যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্যই আদালতের এই কড়া অবস্থান।
চিকিৎসকদের মতে, আতশবাজির বিষাক্ত ধোঁয়া এবং উচ্চ শব্দ শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি করে না, বরং হৃদরোগী ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। আদালত রাজ্য সরকারকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে যাতে উৎসবের পবিত্রতা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত না হয়।