অপেক্ষার আর মাত্র কয়েক প্রহর। শনিবার বিকেলেই কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলার মসনদে বসতে চলেছে পদ্ম-শিবির। আর এই পরম মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগেই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন বার্তা দিলেন হবু মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার এই রাজনৈতিক পালাবদলকে তিনি স্রেফ ক্ষমতা দখল নয়, বরং ‘নতুন সূর্যোদয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিন সকাল থেকেই গোটা রাজ্য তথা দেশের নজর কলকাতার দিকে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানিয়ে শুভেন্দু লেখেন, “বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হল।” এই মেগা ইভেন্টে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী আজই তিলোত্তমায় পা রাখছেন। তাঁর আগমনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হবু মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “আমাদের দূরদর্শী নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সিটি অফ জয়’ কলকাতায় স্বাগত জানানোর মুহূর্তটি সত্যিই অত্যন্ত গর্বের এবং সম্মানের।”
দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার পতনের পর আজকের দিনটিকে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলে। তাঁর মতে, এই জয় আসলে বাংলার পূর্বপুরুষদের দেখা স্বপ্নপূরণ। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানান, “রাজ্য থেকে অপশাসনের অবসান ঘটল এবং আজ থেকেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের শুভারম্ভ হল। উন্নয়ন, শান্তি এবং সার্বিক বিকাশের নতুন সময় এবার শুরু হতে চলেছে।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তা রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের সেনাপতি থেকে আজ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই উত্তরণকে সমর্থকরা ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখছেন। পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে শপথ বিজেপি নিয়েছিল, আজ থেকেই তার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো। বিকেলের ব্রিগেডে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে শপথগ্রহণের পর বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় কী কী বদল আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ভারত।





