রাজ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলা। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ রাজভবনের এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে তিনি পদ ও গোপনীয়তার শপথ নেন। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে তাঁর এই উত্থান বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আজ শপথ নিলেন মেদিনীপুরের দাপুটে নেতা ও খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শপথ গ্রহণ তালিকায় পরবর্তী চমক হিসেবে উঠে আসছে অগ্নিমিত্রা পালের নাম। আসানসোল দক্ষিণের এই লড়াকু বিধায়কও আজ শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখ। আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যারা শপথ নিলেন এবং নিতে চলেছেন, তাদের সম্পূর্ণ তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
শুভেন্দু অধিকারী: মুখ্যমন্ত্রী (বিধায়ক, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর)
দিলীপ ঘোষ: (বিধায়ক, খড়গপুর সদর)
অগ্নিমিত্রা পাল: (বিধায়ক, আসানসোল দক্ষিণ)
অশোক কীর্তনীয়া: (বিধায়ক, বনগাঁ উত্তর)
ক্ষুদিরাম টুডু: (বিধায়ক, রানিবাঁধ)
নিশীথ প্রামাণিক: (বিধায়ক, মাথাভাঙা)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সর্বত্রই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডুর মতো প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের দাবিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে এই নতুন সরকার। বনগাঁর মতুয়া ভোটব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে অশোক কীর্তনীয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে নতুন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে বাংলার সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দপ্তর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





