. শত কোটি টাকার জমি উধাও! ভুয়ো প্যান কার্ড ও জাল নথির সাহায্যে বিরাট জালিয়াতি, দিল্লির বুক থেকে ২ মাস্টারমাইন্ডকে তুলল ইডি

আধ্যাত্মিক ট্রাস্টের জমি হাতিয়ে শত শত কোটি টাকার এক মেগা দুর্নীতি মামলার পর্দাফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জাল নথির সাহায্যে বিপুল পরিমাণ জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এই চক্রের দুই মূল পান্ডাকে গ্রেপ্তার করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। ধৃতদের নাম জি. রামচন্দ্র মোহন এবং আকাশ মালভিয়া। এই হাইপ্রোফাইল জমি কেলেঙ্কারির শিকড় উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং ছত্তিশগড়—এই তিন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ধৃত দুজনকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করা হলে, বিচারক তাদের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ১৪ ও ১৫ মে দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ‘স্পিরিচুয়াল রিজেনারেশন মুভমেন্ট ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ (এসআরএমএফ)-এর মালিকানাধীন জমি নিয়ে চলা এক বিরাট জালিয়াতি। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথেই ইডি ‘সিংবাহিনী ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তার পরিচালকদের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ বা জব্দ করেছে।

ভুয়ো প্যান কার্ড ও জাল সই: কীভাবে চলত এই চক্র?

ইডির চার্জশিট ও তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, এই জালিয়াতির নেপথ্যে কাজ করছিল একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত অপরাধী চক্র। তারা কোটি কোটি টাকার মূল্যবান ট্রাস্টের জমি বিক্রি করার জন্য জাল ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’, ভুয়ো বোর্ড রেজোলিউশন এবং একাধিক জাল সরকারি নথি তৈরি করেছিল। ইডি-র দাবি, এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল মস্তিস্ক বা হোতা হলেন জি. রামচন্দ্র মোহন।

নিজেকে এসআরএমএফ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করে মোহন একটি সম্পূর্ণ ভুয়া সংস্থা গড়ে তোলেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি একটি জাল প্যান কার্ড তৈরি করে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার খেলা চলত। পরবর্তীতে আয়কর বিভাগ ওই প্যান কার্ডটিকে ‘ভুয়া করদাতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেয়।

অন্য দিকে, ধৃত দ্বিতীয় অভিযুক্ত আকাশ মালভিয়া নিজেকে ওই আধ্যাত্মিক ট্রাস্টের একজন উচ্চপদস্থ কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই ভেক ধরেই তিনি একটি জাল বিক্রয় দলিল (সেল ডিড) তৈরি করেন এবং কোটি কোটি টাকার ট্রাস্টের জমি অবৈধভাবে বিক্রি করতে প্রধান ভূমিকা নেন।

তদন্তের স্ক্যানারে নামী আবাসন সংস্থা, বাজেয়াপ্ত ল্যান্ড রোভার

এই জালিয়াতি চক্রে প্রদীপ সিং এবং তাঁর সংস্থা ‘সিংবাহিনী ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ভূমিকাও এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার কড়া স্ক্যানারে। ইডি জানিয়েছে, প্রদীপ সিং ও তাঁর সংস্থা ভালো করেই জানত যে জমিটির আসল মালিক এসআরএমএফ ট্রাস্ট এবং যারা এটি বিক্রি করছে, তাদের কোনো আইনি অধিকারই নেই। তা সত্ত্বেও সস্তায় জমি হাতিয়ে নেওয়ার লোভে তারা ওই বেআইনি সম্পত্তি কেনে এবং পরে তার শেয়ার ও অংশীদারিত্ব তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে মোটা টাকা মুনাফা লোটে।

দুই দিন ধরে চলা এই মেগা অভিযানে ইডি অফিসাররা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হদিশ পেয়েছেন। তল্লাশিতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট ও লকার সিল করার পাশাপাশি অপরাধের টাকায় কেনা একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও হাই-এন্ড যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িগুলির তালিকায় রয়েছে টয়োটা হাইব্রিড, ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার এবং মাহিন্দ্রা থার রক্সের মতো মহার্ঘ সব মডেল। এই চক্রের সাথে আরও কোনো বড় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে রয়েছে কিনা, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা করছেন ইডির দুঁদে আধিকারিকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy