“মন্দিরে বেশি ভিড় হলে কি লাঠিচার্জ হবে?” রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে কেন হঠাৎ নজিরবিহীন ক্ষোভ সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর?

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার এক নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় নিল। রাজ্যে রাস্তায় যানজট রুখতে বা সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর বিধিনিষেধ বা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ইস্যুতে এক বিস্ফোরক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যের প্রবীণ মুসলিম নেতা তথা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সরাসরি মন্দিরের ভিড়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।

কলকাতায় আয়োজিত একটি সভা থেকে রাস্তায় নামাজ পড়ার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সুর চড়ান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি কোনো মন্দিরে বা ধর্মীয় উৎসবে অতিরিক্ত ভিড় হয় এবং তা চারপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন কি সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করবে? তাহলে মুসলিমদের পবিত্র নামাজ আদায়ের সময় কেন এত আপত্তি তোলা হচ্ছে?” তাঁর এই একটি মন্তব্যই স্বভাবতই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতে, নামাজ কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় আচার এবং এটি অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য সম্পন্ন হয়। বছরে মাত্র কয়েকটি বিশেষ দিনে বা সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে যখন মসজিদে জায়গা সংকুলান হয় না, তখনই বাধ্য হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ রাস্তায় বা খোলা জায়গায় বসেন। এটিকে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা বা যানজটের অজুহাতে বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এই মন্তব্য একদিকে যেমন তাঁর নিজস্ব সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করার কৌশল, অন্যদিকে তা রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এক বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ। তবে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। ধর্মীয় ভাবাবেগকে হাতিয়ার করে আইন ও জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করার এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবত্রই এখন তীব্র তরজা চলছে। এই স্পর্শকাতর ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বা রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।