লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই আকাশ জয়ের স্বপ্ন! এয়ার ইন্ডিয়ার বড় ঘোষণা ঘিরে শোরগোল!

এভিয়েশন জগতে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে টাটা গ্রুপের বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’। বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান এবং বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংস্থাটি তাদের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে একচুলও সরে না আসার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ভারতের আকাশপথের মানচিত্র বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের বিদ্যমান ফ্লাইটগুলিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো, নতুন আন্তর্জাতিক শহরগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ভারতকে একটি শক্তিশালী গ্লোবাল এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) নিপুন আগরওয়াল জানিয়েছেন, সংস্থাটির লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রতিটি প্রধান শহরের সঙ্গে ভারতের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি এয়ারলাইন গড়ে তুলতে চাই, যা নিয়ে প্রতিটি ভারতীয় গর্ববোধ করতে পারবে।”
এয়ার ইন্ডিয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার অন্যতম চালিকাশক্তি হলো তাদের বিশাল বিমানবহর। ২০২৩ সালে এয়ারবাস এবং বোয়িংয়ের কাছে ৪৭০টি নতুন উড়োজাহাজের অর্ডার দেওয়ার পর, ২০২৪ সালে সংস্থাটি আরও ৩০০টি নতুন বিমান কেনার ঘোষণা করে। সব মিলিয়ে মোট ৭৭০টি উড়োজাহাজের বিশাল অর্ডার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। যদিও এই বিমানগুলির বেশিরভাগ এখনও সরবরাহ করা হয়নি, তবে এগুলি হাতে আসার পর ভারতের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই স্বপ্নের পথটি মসৃণ নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বিমান সংস্থাটি প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানের মুখ দেখেছে। টাটা সন্সের বোর্ড এই ক্রমবর্ধমান লোকসান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু উড়োজাহাজের ডেলিভারি স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কথাও ভেবেছিল। কিন্তু টাটা গোষ্ঠী তাদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিতে অটল থেকে সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বিশাল লোকসানের পেছনে বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ বিদ্যমান। অন্যতম প্রধান বাধা হলো পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকা। এর ফলে ইউরোপ ও মার্কিনগামী ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়কে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার ফলে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সংস্থাটিকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
তবে নিপুন আগরওয়াল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, সাময়িক এই বাধাগুলি কাটিয়ে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত থাকা সমস্ত রুটে ফ্লাইট পরিষেবা স্বাভাবিক হবে। যদি পাকিস্তানের আকাশসীমা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকে, তবে এয়ার ইন্ডিয়া বিকল্প পরিকল্পনার কথাও ভাবছে। টাটা গোষ্ঠীর দৃঢ় বিশ্বাস, প্রতিকূলতার এই মেঘ কেটে যাবে এবং এয়ার ইন্ডিয়া বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।