লাল টুপির দিন শেষ! ২০২৭-এর মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে ছাত্র সংগঠনের ড্রেস কোডে বড় বদল আনল সমাজবাদী পার্টি

আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। দলিত ভোটার এবং তরুণ সমাজকে নিজেদের দিকে টানার এক সুদূরপ্রসারী কৌশলের অংশ হিসেবে নিজেদের ছাত্র সংগঠন ‘সমাজবাদী পার্টি ছাত্র সভা’-র চিরাচরিত ড্রেস কোড পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। এতদিন ধরে সংগঠনের নির্ধারিত লাল রঙের পোশাকের পরিবর্তে এখন থেকে নীল রঙের জিন্স এবং নীল রঙের টি-শার্ট পরিধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার লখনউয়ে আয়োজিত ছাত্র সভার এক বিশেষ সম্মেলনে এই নতুন পোশাক পরিহিত অবস্থায় সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারী ও সক্রিয় কর্মীদের দেখা যাবে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পোশাক পরিবর্তনকে নিছক কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর নেপথ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলিত যুবসমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব বিস্তারের এক সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল। উল্লেখ্য, ভারতীয় রাজনীতিতে রঙের প্রতীকী তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে ‘নীল’ রঙটি দলিত রাজনীতি, বহুজন সমাজ এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের মতাদর্শের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেখানে সমাজবাদী পার্টির ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিচিতি এতদিন ধরে লাল ও সবুজ রঙের সংমিশ্রণেই সীমাবদ্ধ ছিল। এমতাবস্থায়, তাদের ছাত্র সংগঠনের প্রধান রঙ হিসেবে নীল রঙকে বেছে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে এসপি সুকৌশলে তাদের প্রচলিত যাদব ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি দলিত ভোটারদের মন জয়ের বার্তা দিতে চাইছে।
গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির ঐতিহাসিক ‘PDA’ (পছড়া, দলিত, পচাদা বা অনগ্রসর, দলিত এবং সংখ্যালঘু) ফর্মুলা দারুণ নির্বাচনী সাফল্য এনে দিয়েছিল। সেই রাজনৈতিক ধারাকেই আরও শানিত করতে এবং ২০২৭ সালের আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প গড়ে তুলতে এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে অখিলেশ যাদবের দল। বর্তমান বিধানসভার মোট ৪০৩টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে ২৫৮টি আসন, যেখানে সমাজবাদী পার্টির ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি আসন। এদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ময়দানে নেমেছে এসপি। তরুণ প্রজন্ম ও নতুন ভোটারদের মন জয় করতে এই অভিনব রদবদল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।