দেশজুড়ে ভুয়া বীজ বিক্রিতে লাগাম টানতে আসছে নতুন আইন! কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের এই ঘোষণায় তোলপাড়

জাল, নকল এবং নিম্নমানের বীজ বিক্রির রমরমা কারবার চিরতরে বন্ধ করতে এবার এক অত্যন্ত কঠোর ও যুগান্তকারী ‘বীজ আইন’ (Seed Act) নিয়ে আসার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই নতুন এবং বহু প্রতীক্ষিত আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করতে এবং দেশজুড়ে কৃষকদের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় কৃষক নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চ-পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষি ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে চলেছে ভারতীয় কিষাণ সংঘ, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU), অল ইন্ডিয়া কিষাণ কোঅর্ডিনেশন কমিটি (AIKCC) এবং সাউথ ইন্ডিয়ান ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের (SIFA) মতো দেশের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলো।

কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট ভাষায় বলে আসছেন যে ১৯৬৬ সালের পুরোনো এবং জ্ধীভূত বীজ আইনটি বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ডেটা সিস্টেম এবং কৃষকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে সম্পূর্ণ অক্ষম। সেই কারণেই প্রস্তাবিত নতুন আইনে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কিউআর কোড (QR Code) ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ ডিজিটাল রেকর্ডের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই আইনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে নিম্নমানের বা নকল বীজ বিক্রি করলে তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। খসড়া আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের জরিমানা এবং কঠোর জেলের বিধান রাখা হয়েছে, যা বীজ মাফিয়াদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করবে।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাঠে-ঘাটে কাজ করা কৃষকদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা এবং খসড়া বিলের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সরকার এমন একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের কৃষক উন্নত মানের এবং উচ্চ ফলনশীল বীজ পেতে পারেন। ভালো ও বিশ্বস্ত সংস্থাগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র নমনীয় না হয়ে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই এই নতুন আইনের মূল দর্শন। সংসদের আসন্ন অধিবেশনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর এই অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ ভারতীয় কৃষি অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।