লাদাখ-কাশ্মীর সংযোগে বিপ্লব! ভারতের মুকুটে জুড়ল বিশ্বের দীর্ঘতম সিঙ্গল-টিউব সুড়ঙ্গের পালক

ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ী লাদাখের মিনিমার্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের দীর্ঘতম সিঙ্গল-টিউব বাই-ডিরেকশনাল সুড়ঙ্গ ‘জোজিলা টানেল’-এর ইস্ট পোর্টাল-এর দ্বার উন্মোচন করলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

প্রকল্পের বিশেষত্ব ও কৌশলগত গুরুত্ব সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,৫৭৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ১৩.১৫ কিমি দীর্ঘ সুড়ঙ্গটি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে সংযোগকারী একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা থাকলেও, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে তা কমিয়ে ৭ হাজার কোটিতে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সামরিক কৌশল ও যাতায়াত কৌশলগতভাবে এই টানেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। ঘোড়ার নালের মতো আকৃতির এই দু’লেনের সুড়ঙ্গটি যেকোনো ঋতুতে কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।

কখন খুলবে জনসাধারণের জন্য? ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গ খননের কাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপ হিসেবে সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের জন্য আরও কয়েক মাস সময় নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই সুড়ঙ্গ দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে।

২০২০ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নির্মাণ কাজ ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পাহাড়ের কঠিন বাধা পেরিয়ে এই টানেল ভারতের সীমান্ত সুরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।