সোনা মানেই এতদিন ছিল গয়নার দোকানে লম্বা লাইন আর লকারে সুরক্ষার চিন্তা। কিন্তু ডিজিটাল যুগের হাত ধরে সেই চিরাচরিত ধারণা পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং সোনাপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)। আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে চালু হতে চলেছে তাদের ‘ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিটস’ (EGR) বা ডিজিটাল গোল্ড সেগমেন্ট। এবার থেকে শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতোই অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজে সোনা কেনাবেচা করা যাবে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সোনা কেনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ করা। NSE-এর এই প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের জন্য সোনা বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বিশুদ্ধতার গ্যারান্টি: এই প্ল্যাটফর্মে শুধুমাত্র ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা কেনাবেচা হবে। যার বিশুদ্ধতার মান ৯৯৫ এবং ৯৯৯ গ্রেডের হবে। ফলে সাধারণ মানুষকে খাঁটি সোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
সাধারণের সাধ্যের মধ্যে: বড় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি এই প্ল্যাটফর্মে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্যও রয়েছে সুযোগ। সর্বোচ্চ ১ কেজি সোনা কেনা গেলেও, সর্বনিম্ন মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম (০.১ গ্রাম) থেকে বিনিয়োগ শুরু করা যাবে। অর্থাৎ, এখন মাত্র কয়েকশো টাকাতেই আপনি ডিজিটাল সোনা কিনতে পারবেন।
কেনাবেচার সময়: সাধারণ শেয়ার বাজারের সময়ের সাথে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সোনা কেনাবেচা করা সম্ভব। ফলে কর্মব্যস্ত মানুষরাও নিজেদের সুবিধামতো সময়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
সুরক্ষিত লকার ব্যবস্থা: ডিজিটাল মাধ্যমে সোনা কিনলেও তার সমপরিমাণ আসল সোনা অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে ‘সেবি’ (SEBI) নিয়ন্ত্রিত ভল্টে জমা থাকবে। অর্থাৎ, আপনার কেনা সোনা সবসময় সুরক্ষিত থাকছে।
জিএসটি ও ডেলিভারি: এক্সচেঞ্জে শুধু বিনিয়োগ বা ট্রেডিং করলে কোনো জিএসটি দিতে হবে না। তবে যদি আপনি ডিজিটাল সোনা ভাঙিয়ে আসল সোনা বা ফিজিক্যাল ডেলিভারি নিতে চান, তবেই ৩ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বড় ব্রোকারেজ হাউস এবং বিনিয়োগ অ্যাপগুলো ধাপে ধাপে এই নতুন সুবিধাটি তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা ধীরে বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি সোনা বিনিয়োগের অন্যতম সেরা এবং স্মার্ট মাধ্যম হয়ে উঠবে। গয়না না কিনে বা লকারে সোনা রাখার ঝুঁকি না নিয়ে, এখন ডিজিটাল রূপেই সোনা বিনিয়োগ হয়ে উঠবে নতুন প্রজন্মের ভরসা।





