তৃণমূলের অন্দরে মহাবিস্ফোরণ! সাংসদ পদ ছেড়ে সুস্মিতা দেবের সরাসরি হিমন্ত বিশ্বশর্মার দরবারে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যেন ভূমিকম্প! একদিকে যখন বিরোধী জোট INDIA-কে শক্তিশালী করতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের অন্দরে একের পর এক ভাঙনের খবর অস্বস্তিতে ফেলেছে নেতৃত্বকে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। শুধু সাংসদ পদ নয়, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

সুস্মিতা দেবের এই পদত্যাগ কেবল একটি ইস্তফা নয়, বরং তৃণমূলের কাছে এক বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে যখন তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের মুখ হিসেবে তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিল মমতা-অভিষেক নেতৃত্ব। কিন্তু এদিন পদত্যাগের পরই তিনি যে পথে হেঁটেছেন, তাতে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরপরই সুস্মিতা সরাসরি অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই সাক্ষাৎকারে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি এবার অসম বিজেপিতেই নাম লেখাচ্ছেন সুস্মিতা?

এদিকে, সুস্মিতার পদত্যাগের ঠিক একদিন আগেই তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ বদলের আভাস মিলেছিল। দিল্লিতে ১০ জনপথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ আলোচনা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। সেই বৈঠকের ঠিক আগের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎ করেছিলেন সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল যখন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই দলের সাংসদদের একে একে পদত্যাগ তৃণমূলের ‘অন্দরের’ অস্থিরতাকে প্রকাশ করে দিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ঐক্যের মঞ্চে তৃণমূল যখন নিজেকে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখন দলের এমন চুরচুর হয়ে ভাঙন দেশের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, তিনি জীবনের ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে চলেছেন এবং জনসেবার কাজেই নিজেকে নিবেদিত রাখবেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি, কিন্তু হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৈঠক অন্য ইঙ্গিতই বহন করছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, দিল্লির করিডোরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে জল্পনা। সুখেন্দু শেখর রায়ের পর সুস্মিতা দেবের প্রস্থান কি আরও বড় কোনো ভাঙনের সূচনা? এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটে তৃণমূলের অবস্থান কতটা মজবুত থাকবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।