ভারতীয় রেলের মানচিত্রে পূর্ব রেলওয়ে বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী শিয়ালদহ, হাওড়া বা আসানসোল ডিভিশনের ওপর ভরসা করে গন্তব্যে পৌঁছান। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের রেল সফরকে আরও আরামদায়ক এবং ঝামেলামুক্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। লক্ষ্য একটাই—যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং পরিষেবা আধুনিকীকরণ।
যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ নয়া সুবিধা রেল সূত্রের খবর, যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে স্টেশনের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগানো হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মরসুমে বা উৎসবের ভিড়ে যাত্রীরা যাতে সহজেই ট্রেনের টিকিট পান, তার জন্য অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও প্ল্যাটফর্মে পানীয় জলের সুব্যবস্থা, আধুনিক শৌচাগার এবং অপেক্ষালয়গুলিকে আরও উন্নত করার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন এড়াতে এবং তথ্যের আদান-প্রদান আরও সহজ করতে পূর্ব রেল এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে। ইউটিএস অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার পরিধি বাড়ানো এবং স্টেশনে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে ট্রেনের রিয়েল-টাইম আপডেট দেওয়ার কাজ নিরলসভাবে চলছে। ট্রেনের কামরায় সাফাই ব্যবস্থা বা ‘অন বোর্ড হাউসকিপিং’ পরিষেবা যাতে নিখুঁত হয়, তার জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তায় আপসহীন পূর্ব রেল কেবল আরাম নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের কামরায় এবং স্টেশন চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আরপিএফ কর্মীদের টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। রাতে যাতায়াতকারী মহিলা যাত্রীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যাত্রীদের পরিষেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাঁদের অভিজ্ঞতাকে আরও মনোরম করে তুলতে আমরা দিনরাত কাজ করছি। পরিকাঠামোগত যে ছোটখাটো খামতিগুলো আছে, সেগুলো দ্রুত মেটানোর চেষ্টা চলছে।” রেলের এই নিরলস প্রচেষ্টায় আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ট্রেন সফর যে আরও উন্নত হবে, তা নিয়ে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।





