ভারতের সমৃদ্ধ রেল ঐতিহ্যের এক বিরল নিদর্শনকে নতুনের আলোয় ফিরিয়ে আনল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। ১৯১৪ সালে গ্লাসগোর নর্থ ব্রিটিশ লোকোমোটিভ কোম্পানি লিমিটেড দ্বারা নির্মিত ঐতিহাসিক স্টিম লোকোমোটিভ নং ৮০৮-সি (৪-৬-২ প্যাসিফিক ক্লাস) এখন নতুন রূপে সজ্জিত। মালিগাঁওয়ের মুখ্য কার্যালয় প্রাঙ্গণে এটিকে এক উন্নতমানের ঐতিহ্য প্রদর্শনী হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব বরিষ্ঠ রেল আধিকারিক ও কর্মীদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনের উদ্বোধন করেন।
এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ইঞ্জিনটি ভারতীয় রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার এক অনন্য স্মারক। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকার পর, এনএফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের বিশেষ উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নিউ বঙাইগাঁওয়ের সিঅ্যান্ডডব্লিউ ওয়ার্কশপ এটিকে নতুন জীবন দান করেছে। শুধুমাত্র রং বা মেরামতই নয়, ইঞ্জিনটিকে অত্যাধুনিক আলোকসজ্জা, বাস্তবসম্মত শব্দ এবং কৃত্রিম ধোঁয়া তৈরির প্রযুক্তিতে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বাষ্পীয় যুগের সেই সোনালী অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
এই স্টিম লোকোমোটিভটির ইতিহাস বেশ বর্ণময়। ১৯১৪ সালে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) সেবায় যুক্ত হওয়ার পর, এটি তার যমজ ইঞ্জিন নং ৮০৭-এর সঙ্গে মিলে কিষাণগঞ্জ এক্সটেনশন সেকশনে প্রায় ৮০০ টন ওজনের মালবাহী ট্রেন পরিবহনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে শিলিগুড়ি-কিষাণগঞ্জ লাইন মিটার গেজে রূপান্তরিত হলে, ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত এই ইঞ্জিনটি শিলিগুড়িতে ‘শ্যান্টিং পাইলট’ হিসেবে কর্তব্য পালন করে। অবশেষে দীর্ঘ সময় পর অবসর নিলেও, এটি ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।
এনএফ রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, এই ইঞ্জিনটির পুনরুদ্ধার কেবল একটি যন্ত্রের সংস্কার নয়, বরং এটি ভারতের রেল ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি রেলওয়ের গভীর অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ব্রিটিশ আমলের রেল যোগাযোগের ইতিহাস ও বিবর্তনের গল্প তুলে ধরবে। মালিগাঁওয়ের এই প্রদর্শনীস্থলটি এখন রেল উৎসাহী এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় রেলের এই ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকর্ষ এখন মালিগাঁওয়ের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। শতবর্ষ পার করে আসা এই ইঞ্জিনটি আজ কেবল একটি ধাতব কাঠামো নয়, বরং এটি অতীতের এক জীবন্ত ইতিহাস। যারা রেলের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই এক দারুণ অভিজ্ঞতা। রেল দপ্তরের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও ইতিহাসবিদেরা।





