রেজিনগরের উপনির্বাচনে বড় চমক! মুখ্যমন্ত্রীর সভায় শুভেন্দুর মুখে কি থাকবে হুমায়ুন-কাঁটা?

রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি থাকলেও, শুক্রবারের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি আগামীকাল রেজিনগরে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সভা থেকেই উপনির্বাচনের রণকৌশল এবং পদ্ম শিবিরের প্রার্থী নির্বাচনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই ভোট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই সভা গুরুত্বপূর্ণ? বিজেপি সূত্রে খবর, দলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের নেতৃত্বে রেজিনগরকে কেন্দ্র করে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মলয় মহাজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফর ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে।

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কি ফের একবার হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করবেন? এছাড়াও, গত নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী বাপন ঘোষ প্রায় ৬৪ হাজার ভোট পেলেও পরাজিত হয়েছিলেন। এবারও কি তাঁর ওপরই ভরসা রাখবে দল, নাকি নতুন কোনো মুখকে সামনে আনা হবে—সেই সমীকরণ পরিষ্কার হতে পারে শুক্রবারের সভায়।

অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের দলের তরফে তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা রয়েছে। প্রায় ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে সংগঠন মজবুত করতে মরিয়া হুমায়ুন শিবিরও। তৃণমূল কংগ্রেস এখনও তাদের প্রার্থী নিয়ে মুখ খোলেনি।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের রেজিনগর সভা কি শুধুমাত্র নির্বাচনের সুর বেঁধে দেবে, নাকি বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়ে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন রাজ্য রাজনীতি।