রাহুলকে ‘৫৬ বছরের যুবক’ বলে কটাক্ষ মোদীর, সংসদে নিশানা করলেন কৌশলে

সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ। অধিবেশন কক্ষের বাইরে যখন NEET কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য ইস্যুতে সরব বিরোধীরা, তখন অধিবেশন কক্ষের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে শোনা গেল তরুণ সমাজের জয়গান এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ।
‘৫৬ বছরের যুবক’ বনাম ‘২৮ বছরের তরুণ’: নিজের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের তরুণ সমাজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্কাইরুট’-এর সাফল্য নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই স্টার্টআপে কর্মরত তরুণদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। তাঁরা মহাকাশে ভারতের পতাকা উড়িয়ে দেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।” এরপরই তিনি সরাসরি নাম না করে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, “আমি কোনো ৫৬ বছরের ‘যুবক’-এর কথা বলছি না।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়লেও রাজনৈতিক মহলে এটি যে সরাসরি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করা, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
উন্নয়ন ও শক্তির লড়াই: তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকেও আলোকপাত করেন। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে ভারত জ্বালানি ও শক্তি সংকটের সম্মুখীন হলেও, দেশ ৭.৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও গ্রিন হাইড্রোজেন ট্রেন লঞ্চ, রাজস্থানের তেল শোধনাগার এবং সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের মতো উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে তিনি ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির ওপর জোর দেন।
বিরোধীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: অধিবেশন নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বিরোধী সাংসদদের একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“সংসদ সঠিক ভাবে চলতে দেওয়া জরুরি।”
“তথ্য ও যুক্তির লড়াই হোক, কিন্তু হট্টগোল বা ‘তুফানের’ কোনো জায়গা সংসদে নেই।”
শান্ত ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদীয় কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অধিবেশনের বাইরে উত্তাপ: সংসদ যখন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ব্যস্ত, তখন সংসদের বাইরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে রাজধানী ছিল রণক্ষেত্র। NEET কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন বাদল অধিবেশন চলাকালীন সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী যেভাবে রাষ্ট্রভক্তি ও গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান জানালেন, তা থেকে স্পষ্ট যে এই বাদল অধিবেশন হতে চলেছে সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুক্তিনির্ভর লড়াইয়ের ক্ষেত্র।