“রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান কেন?”-দেশের ভেতরের শত্রুদের সাফ করার কড়া বার্তা শুভেন্দুর

দেশের অন্দরে লুকিয়ে থাকা ‘দেশবিরোধী শক্তি’ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠা একাধিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বহিরাগত শত্রুদের পাশাপাশি ঘরের ভেতরের শক্তিগুলোকেও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেভাবে বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়, সেভাবেই দেশের অন্দরের ক্ষতিকর শক্তিগুলোকে নির্মূল করার শপথ নিতে হবে।
এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠা তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বাইরে তো শত্রুরা রয়েছেই, কিন্তু ভয়ের বিষয় হল ঘরের ভেতরেও তারা লুকিয়ে রয়েছে। কলকাতার রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান তোলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদানের ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। পাশাপাশি, যাদবপুরের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ স্লোগান লেখার তীব্র নিন্দা করে নতুন প্রজন্মকে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান নিয়ে আপত্তির নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, এর সম্পূর্ণ রূপ গাওয়ায় কিসের বাধা থাকা উচিত নয়।
বাইরের শত্রুদের মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বলতে গিয়ে পহেলগাঁওয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি জানান, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকে শত্রুদের জবাব দিয়েছে, ঠিক তেমনই দেশের অন্দরের শত্রুদেরও শক্ত হাতে দমন করা হবে। এদিনের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, একটি উন্নত ও বিকশিত বাংলাকে বাদ দিয়ে ভারতের সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়, তাই দেশকে উচ্চ আসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।