বেঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিট ও ব্রিগেড রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে থাকা মহিলাদের গোপনে ভিডিও করে ‘স্ট্রিট ফ্যাশন’ রিল বানিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছিলেন এক ব্যক্তি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এক মহিলা, যিনি নিজের অজান্তেই সেই ভিডিওর অংশ হয়ে উঠেছিলেন। অভিযোগ ওঠার পরই বেঙ্গালুরু পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মহিলাদের সুরক্ষার প্রশ্নকে আবারও সামনে আনল।
ইনস্টাগ্রামে বিস্ফোরক পোস্ট: ‘অশ্লীল মেসেজে ভরে গেছে ইনবক্স’
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইনস্টাগ্রামে এক মহিলার সাহসী পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি জানান যে, তাঁর সম্মতি ছাড়াই একটি ভিডিও গোপনে তোলা হয়েছিল এবং তা পোস্ট হওয়ার পর থেকেই তিনি একাধিক কুরুচিকর বার্তা পেতে শুরু করেন। তিনি লেখেন, “আমি বহুবার রিপোর্ট করেছি, কোনো কাজ হয়নি। ওই রিল মিনিটে মিনিটে ভিউ পাচ্ছে, আর লোকজন আমার অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে অশ্লীল মেসেজ পাঠাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শুধু তিনিই নন, এমন অনেক মহিলার ভিডিও ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছে, যাঁরা জানেনও না যে তাঁদের ছবি বা ভিডিও তোলা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি এবং আরও অনেকে ওই অ্যাকাউন্টটিকে রিপোর্ট করলেও, ইনস্টাগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এটি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস’-এর আওতায় পড়ে না।
এরপর সেই মহিলা সরাসরি বেঙ্গালুরু পুলিশকে ট্যাগ করে অ্যাকাউন্টটি সরানোর অনুরোধ করেন এবং তাঁর অনুগামীদের ওই অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করার আহ্বান জানান, এই বিশ্বাসে যে “সংখ্যার জোরেই বদল আনা সম্ভব।”
পুলিশের তৎপরতা: অভিযুক্ত গুরুদীপ সিং গ্রেফতার
অভিযোগ পেয়ে বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম পুলিশ দ্রুত একটি মামলা রুজু করে এবং তদন্ত শুরু করে। অবশেষে @IndianWalk নামে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলটির কনটেন্ট ক্রিয়েটর গুরুদীপ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, গুরুদীপ বেঙ্গালুরুর কেআর পুরম এলাকার বাসিন্দা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গুরুদীপ ইনস্টাগ্রামে একাধিক মহিলা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন, যার মধ্যে বেশ কিছু অশালীন ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছিল। বর্তমানে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে, এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। একই সাথে ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির কমিউনিটি গাইডলাইনস কতটা কার্যকর, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরু পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ অবশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।





