‘চুন চুন কে হিসাব নেব’, ৪ মে-র পর গুন্ডারাজ খতমের গ্যারান্টি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের পুণ্যভূমি কোচবিহার থেকে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দানে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে তৃণমূল সরকারের শাসনের অন্তিম লগ্ন ঘোষণা করলেন তিনি। উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এবার বাংলা বদল নিশ্চিত।”
হিসেবের পালা শুরু: এদিনের সভা থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে মোদি হুঁশিয়ারি দেন যে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর তৃণমূলের দুর্নীতির ‘চুন চুন কে’ (বেছে বেছে) হিসাব নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আইন নিজের কাজ করবে। যতই বড় গুন্ডা হোক না কেন, কাউকেই ছাড়া হবে না। বাংলায় এবার মায়েদের চোখের জলের হিসাব হবে।”
আইনশৃঙ্খলা ও বিচারক হেনস্তা নিয়ে তোপ: মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনা টেনে এনে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে রাজ্যে বিচারকরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাংলায় এখন ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে। এরা সাংবিধানিক কাজেও বাধা দিচ্ছে।” সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে নারী সুরক্ষা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সিন্ডিকেট রাজ বনাম মোদির গ্যারান্টি: মোদির অভিযোগ, তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থান ধ্বংস করে দিয়েছে। একসময় মানুষ কাজের জন্য বাংলায় আসত, আর এখন বাংলার যুবকদের বাইরে যেতে হচ্ছে। তোষণ এবং কাটমানির রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত’ এবং ‘আত্মনির্ভর বাংলা’ গড়ার ডাক দেন তিনি। হেলিকপ্টার থেকে দেখা উপচে পড়া ভিড় দেখে মোদির মন্তব্য, “বাংলার বাতাস বলছে বিজেপি আসছে। কারণ আপনাদের পাশে আছে মোদির গ্যারান্টি।”