রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি! পাকিস্তানের প্রাক্তন ISI প্রধান ফয়েজ হামিদকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড, রাজনীতিতে যোগসাজশের অভিযোগ

পাকিস্তানের সামরিক আদালতে বড়সড় রায়। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগে গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর প্রাক্তন প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদকে ১৪ বছরের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে সেনা থেকে অবসর নেওয়া ফয়েজ ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইএসআই প্রধান ছিলেন। উল্লেখ্য, তিনিই বর্তমান পাক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মুনিরকে অকালে পদ থেকে অপসারণ করে ওই পদে বসেছিলেন।
রাজনীতিবিদদের জড়িত থাকার দাবি ও ইমরান প্রসঙ্গে জল্পনা:
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) বিবৃতি জারি করে এই ঘটনার নেপথ্যে ‘আরও বড় ষড়যন্ত্র’ থাকার দাবি করেছে। পাক সেনার দাবি, ফয়েজ হামিদের এই মামলায় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও জড়িত। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনায় কি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকেও জড়ানো হবে? অভিযোগ, পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) ক্ষমতায় থাকাকালীন ফয়েজ হামিদ নাকি ইমরান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এমনকি ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সরাসরি রাজনীতিতে যোগদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
পাক সেনার অভিযোগ, ফয়েজ হামিদ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের অনুগামীরা পাকিস্তানি সেনার সদর দফতরে যে হামলা চালিয়েছিল, তার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। ২০১৭ সালে তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) এবং তৎকালীন পাক সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতাও করেছিলেন ফয়েজ।
ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ:
ফয়েজ হামিদের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর ডেপুটি কালেক্টর ভাই নাজাফ হামিদের বিরুদ্ধেও। ২০২৪ সালে ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন নাজাফ। অভিযোগ ওঠে, ফয়েজ আইএসআই প্রধান থাকাকালীন নাজাফ নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। এই প্রেক্ষিতেই চাকওয়ালের দুর্নীতি দমন সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।
২০২৪ সালের ১২ অগস্ট ফয়েজ হামিদের বিরুদ্ধে ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল শুরু হয়েছিল। ১৫ মাস ধরে মামলা চলার পর সম্প্রতি সামরিক আদালত চারটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।