ককপিটেই গাঁজার নেশা! দিল্লি-ফুকেত বিমান চালকের কাণ্ডে শিউরে উঠলেন যাত্রীরা

দিল্লি থেকে ফুকেতগামী একটি আন্তর্জাতিক উড়ানে সামনে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগজনক তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বিমানটি আকাশে ওড়ার ঠিক আগে ককপিটের ভেতরেই নিষিদ্ধ মাদক বা গাঁজা সেবন করেছিলেন খোদ বিমানের পাইলট! কেবল তাই নয়, খোদ কেবিন ক্রু বা বিমানকর্মীরাই সেই সময় পাইলটের বিরুদ্ধে গাঁজা খাওয়ার এই গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সময় সেই জরুরি অভিযোগের ওপর কোনো রকম আমল বা গুরুত্বই দেওয়া হয়নি বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

aviation সুরক্ষার দিক থেকে এই ঘটনাটি রীতিমতো নজিরবিহীন এবং বিপজ্জনক। সাধারণত একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উড়ানে শত শত যাত্রী নিজেদের জীবন সঁপে দিয়ে যাতায়াত করেন। সেখানে পাইলটের মতো এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিমান পরিচালনার দুঃসাহসিক কাজ করেন, তবে তা সমগ্র যাত্রী সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি চরম ছিনিমিনি খেলার সমান। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়ান শুরুর প্রাক্কালে ক্রু মেম্বাররা যখন পাইলটের অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং গাঁজা সেবনের বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখনই তাঁরা অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে প্রশাসনিক বা পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে সেই অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায় বা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

সাম্প্রতিক এই তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এভিয়েশন মহলে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কীভাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলট সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কাজ করতে পারলেন এবং সেই সময় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ কেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যাত্রীদের জীবন নিয়ে এহেন গাফিলতি এবং অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের আকাশপথে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার পর এখন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি আরও বেশি কড়া নজরদারি এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।