রাশিয়ার তেল-গ্যাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন চাল! ভারত ও চিনের জন্য বড় স্বস্তির খবর?

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ফের বড়সড় মোড়। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন সেনেটে পেশ করা হলো এক সংশোধিত বিল, যা ভারত ও চিনের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক সেনেটরদের যৌথ উদ্যোগে এই বিলটি সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে শক্তিমান মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
কী পরিবর্তন আনছে এই বিল?
রাশিয়ার জ্বালানি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। তবে সব থেকে বড় পরিবর্তনটি হলো শুল্কের পরিমাণে। পূর্ববর্তী খসড়ায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর যে চরম প্রস্তাব ছিল, নতুন সংস্করণে তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কেবল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচটি আমদানিকারক দেশের ওপরই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, সব দেশের ওপর সমানভাবে এই আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে না, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতের জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
ভারত ও চিন বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই দেশগুলোর ওপর চাপের মাত্রা সরাসরি কিছুটা কমবে। তবে এই বিলের সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অর্পিত বিশেষ ক্ষমতা। বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া বা বিশেষ ছাড় দেওয়ার একক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই নমনীয়তা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিলের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ:
এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং সেদেশের জ্বালানি শক্তির ওপর বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালের উদ্যোগে আনা এই বিলটির পেছনে বর্তমানে ২৬ জন কো-স্পন্সর রয়েছেন। আগের খসড়ার তুলনায় এই সংশোধিত সংস্করণটির সেনেটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনীতি যে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই নতুন মার্কিন বিলটি জ্বালানি তেলের দাম ও সাপ্লাই চেইনকে স্থিতিশীল রাখার এক কৌশলগত প্রয়াস। ভারত ও চিনের মতো দেশগুলো এই বিলের বিশেষ ধারাগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। গোটা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।