“রায়গঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর কার্নিভাল বয়কট করলেন তৃণমূল বিধায়ক! কৃষ্ণ কল্যাণীর বিস্ফোরক পোস্টে ফাঁস গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ‘কুকথা'”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে রাজ্যজুড়ে যখন জেলায় জেলায় দুর্গাপূজা কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন রায়গঞ্জে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। শনিবার রায়গঞ্জে কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হলেও, শাসকদলের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী সেই অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তা বয়কট করার ঘোষণা করেন। শাসকদলের বিধায়কের এই পদক্ষেপ প্রকাশ্যে এনেছে রায়গঞ্জের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

পুরসভার চরম ব্যর্থতা ও ‘উন্নয়ন থমকে যাওয়া’র অভিযোগ
কার্নিভাল শুরুর কিছু আগেই বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রায়গঞ্জ পুরসভা ও প্রশাসনের চরম অবহেলার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন:

“শহরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রায়গঞ্জ পুরসভা ও প্রশাসনের চরম অবহেলার কারণে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে থমকে গিয়েছে। জলাবদ্ধতা, নোংরা রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা আজ আমাদের সকলের চোখে পড়ছে।”

তাঁর দাবি, নগর উন্নয়ন বিভাগ থেকে সাত কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিভাগ থেকে ১০ কোটি টাকা পুরসভা এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হলেও, রায়গঞ্জ পুরসভা তা ব্যবহারে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

বিধায়ক স্পষ্ট জানান, “শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র উৎসবের নামে প্রদর্শনীতে সামিল হওয়া অনুচিত। তাই আমি… এই বছরের পুজো কার্নিভাল থেকে নিজেকে বিরত রাখছি।”

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ ও পালটা তোপ
বিধায়কের এই পোস্ট নিয়ে রায়গঞ্জ শহরের রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ এই ঘটনাকে “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, “কোটি কোটি টাকা কাজের জন্য এসেছে কিন্তু সব টাকা কাটমানিতে গিয়েছে। নিজেদের মধ্যে খাওয়া-খাওয়িতে রায়গঞ্জের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

পুরসভার পালটা অভিযোগ: রায়গঞ্জ পুরসভার উপ-পুরপ্রশাসক অরিন্দম সরকার বিধায়কের পোস্টে অবাক হয়েছেন। তাঁর দাবি, “রায়গঞ্জ বিধানসভা এলাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ বিধায়কের মাধ্যমেই হয় এবং তাঁর পছন্দের ঠিকাদার সংস্থাই সেই কাজ করেন।” তিনি বিধায়কের কাছেই কার্নিভাল বয়কটের কারণ জানতে চেয়েছেন।

তৃণমূলের জেলা সভাপতির মন্তব্য: তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, বিধায়ক কেন কার্নিভাল বয়কট করেছেন তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তবে পুরসভার কোনও কাজ নিয়ে অসন্তোষ থাকলে বিধায়ক দলের সভাপতিকে জানাতে পারতেন।

বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী অবশ্য তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, রায়গঞ্জ শহরে নোংরা আবর্জনার স্তূপ জমে আছে এবং মানুষ চলাফেরা করতে পারছে না। তাঁর মতে, “রায়গঞ্জে উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট সাহায্য করা হয়েছে, কিন্তু কোনও প্ল্যানিং ছাড়াই রাস্তাঘাট খুঁড়ে রেখেছে পুরসভা।” রায়গঞ্জবাসীর আওয়াজ তোলাই তাঁর নৈতিক দায়িত্ব, এবং সেই কারণেই তিনি কার্নিভালে সামিল হননি বলে জানিয়েছেন।