“একরাতে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি! গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাসিমারা-কালচিনি সড়ক, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতার জরুরি বার্তা”

শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি এবং বজ্রপাতে আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জেলায় সবচাইতে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাসিমারা এলাকায়, যেখানে এক রাতে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই রেকর্ড বৃষ্টির জেরেই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

তোর্ষা নদীর ‘রুদ্ররূপ’ ও গ্রামে জল প্রবেশ
বৃষ্টির তীব্রতার কারণে হাসিমারার তোর্ষা নদীতে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁধ ভাঙন: হাসিমারা তোর্ষা নদীর পাশে অবস্থিত পারমালঙ্গি এলাকা সবচাইতে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এলাকার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদীর জল দ্রুত গতিতে গ্রামে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

ব্রিজে আশ্রয়: জয়গাঁ ছোট মেচিয়াবস্তি এলাকায় তোর্ষার জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। নদীর এমন ‘রুদ্ররূপ’ আগে কখনও দেখেননি বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। জল বাড়তে থাকায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে বহু মানুষ ব্রিজের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।

রেল ব্রিজে জল: তোর্ষার জল এতটাই বেড়েছে যে তা প্রায় রেল ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে এলাকাবাসীরা গত রাত থেকে দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও প্রশাসনের তৎপরতা
প্রবল বৃষ্টির কারণে হাসিমারা-কালচিনি সড়কের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়েছে, যার ফলে এই রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হাসিমারা রেল পুলিশ কর্মীরা এলাকায় এসেছিলেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সাদ্দাম আনসারী জানিয়েছেন, তাঁরা গতকাল রাত থেকেই এলাকায় রয়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আজ সারাদিন বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।” স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে উদ্ধারকাজ এবং প্রয়োজনীয় তদারকি চলছে।