অষ্টম বেতন কমিশন: ৫ সদস্যের পরিবারের জন্য কি ৫৫ হাজার টাকা হতে চলেছে নূন্যতম বেতন? নতুন হিসেব দেখে নিন

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। যদিও সরকার এখনও কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবুও বেতন বৃদ্ধি, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। বিশেষ করে, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে একটি পাঁচ সদস্যের পরিবার কীভাবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবে, তা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।
খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে কর্মীরা তাকিয়ে আছেন অষ্টম বেতন কমিশনের নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দিকে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি পেলে কর্মীদের মূল বেতন (Basic Pay) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA), ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স এবং ভবিষ্যতের মহার্ঘ ভাতার ওপর। বর্তমান বেসিক বেতন যদি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ঘরে হয়, তবে নতুন কাঠামোয় মাসিক আয়ে বড়সড় উল্লম্ফন আসতে পারে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবিটি উঠে এসেছে কর্মচারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। সপ্তম বেতন কমিশনে ‘৩ ফ্যামিলি ইউনিট’ মডেল (কর্মচারী, স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) অনুসরণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অধিকাংশ সরকারি কর্মীকে নির্ভরশীল বাবা-মায়ের দায়িত্বও বহন করতে হয়। অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল পিঅ্যান্ডটি এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF) দাবি জানিয়েছে যে, নতুন কমিশনে পরিবার বলতে ৫ ইউনিটকে (কর্মচারী, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল বাবা-মা) গণ্য করতে হবে।
যদি এই ৫ ইউনিটের তত্ত্ব গৃহীত হয়, তবে হিসাবটি বেশ আকর্ষণীয়। সপ্তম কমিশনে ৩ ইউনিটের ভিত্তিতে ন্যূনতম মূল বেতন ছিল ১৮,০০০ টাকা। সেই একই যুক্তিতে ৬,০০০ টাকা করে ৫ ইউনিট ধরলে ন্যূনতম মূল বেতন হতে পারে ৩০,০০০ টাকা। এর সঙ্গে প্রায় ৫৮ শতাংশ ডিএ যোগ করলে ন্যূনতম বেতন প্রায় ৪৭,৪০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতিতে পে ম্যাট্রিক্সের লেভেল-১ কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, সরকার এই দাবিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং জুলাই মাসের সম্ভাব্য ডিএ বৃদ্ধি ও অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা কর্মীদের আর্থিক জীবনে কতটা স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, নতুন পে কমিশন কার্যকর হলে মধ্যবিত্ত সরকারি পরিবারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।