রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ মামলায় বড় ধাক্কা! জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে কোনো স্বস্তি মিলল না। মন্দিরের দান ও অর্ঘ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মূল দাবি ছিল, উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু, সেই জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো সাড়া দিল না শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বেঞ্চের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার শুনানি এখনই না হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।” আদালত জানিয়েছে, বর্তমান গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর যখন নিয়মিত আদালত বা রেগুলার কোর্ট শুরু হবে, তখনই এই মামলার শুনানি হবে। আপাতত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজি হয়নি আদালত।
কী অভিযোগ উঠেছে?
গত কয়েকদিন ধরে রাম মন্দিরের দান নিয়ে ওঠা অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। অভিযোগ উঠেছে, শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের দান গণনা ও জমার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত, তারাই এই তছরুপের নেপথ্যে রয়েছে। ট্রাস্টের সদস্য শ্রী কৃষ্ণ মোহনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই রাম জন্মভূমি কোতোয়ালিতে আটজন নামজাদা অভিযুক্ত এবং আরও বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা এবং মনীশ যাদবের নাম রয়েছে।
তদন্তকারী সিট (SIT) সূত্রে খবর, অনুদান গণনার সময় সিসিটিভি ফুটেজ বা নথি লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। চ্যাট ডিলিট থেকে শুরু করে মোবাইল ফরম্যাট করা—প্রমাণ লোপাটের এমনই এক বেনজির চেষ্টার তথ্য সামনে এসেছে যা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরও অবাক করে দিয়েছে। সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্টে মন্দির চত্বরের দানবাক্স থেকে দিনের পর দিন কীভাবে টাকা সরিয়ে ফেলা হতো, তার ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ
উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। যোগী সরকারের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) মন্দির চত্বরের কর্মচারী ও ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দফায় দফায় জেরা করছে। নথিপত্র এবং বয়ান পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে সূত্রের খবর। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় সিবিআই তদন্তই একমাত্র পথ। কিন্তু শীর্ষ আদালতের আজকের সিদ্ধান্তের পর সিবিআই তদন্তের বিষয়টি আপাতত ভবিষ্যতের গর্ভে।
এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর নিয়মিত আদালত বসলে এই মামলার শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। মন্দির চত্বরে এই ধরণের আর্থিক অনিয়ম কীভাবে বছরের পর বছর চলল এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমানসে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।